সানন্দা নন্দী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সানন্দা নন্দী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৮

" পৃথক দুর্গা " | সানন্দা নন্দী


তোমার দুর্গা মাটির প্রলেপে নিখুঁত তৈরি প্রাণহীন মূর্তি
আমার দুর্গা অনুভূতি পূর্ণ রক্ত-মাংসে গড়া জ্যান্ত মানুষ রূপিণী
তোমার দুর্গার প্রতি বছর আশ্বিন মাসে ধুমধামে মর্ত্যে আগমন
আমার দুর্গা এখনো অবাঞ্ছিত তাই মাতৃ গর্ভেই মৃত্যু বরণ
তোমার দুর্গা বেনারসী শাড়ী ও অলঙ্কারে সুসজ্জিতা
আমার দুর্গা ছেঁড়া বসনে কোনো ক্রমে লজ্জা নিবারণী
তোমার দুর্গার কুঞ্চিত সুবিন্যস্ত কেশরাশি
আমার দুর্গার তেলহীন অবিন্যস্ত রুক্ষ কেশরাশি
তোমার দুর্গা জগৎ জননী মহিষাসুর মর্দিনী
হায় ! আমার দুর্গা এখনো যে ধর্ষকের যৌন শিকার
তোমার দুর্গার অর্ঘ্যর তরে ব্যয় হয় রাজকোষ
হায় ! আমার দুর্গা মেধাবী হয়েও অর্থাভাবে মধ্য শিক্ষায় সমাপ্ত
তোমার দুর্গার ভরা সুখের সংসার স্বামী সন্তান নিয়ে
আমার দুর্গা পরে থাকে পিত্রালয়ে যৌতুকের অভাবে
তোমার দুর্গা সাগর পাড়ি দেয় পূজিত হবেন বলে
আমার দুর্গা আজো পতিতা হয় দারিদ্রতা ঘোচাতে
তোমার দুর্গা পূজিত হন ভক্তি ভরা মন নিয়ে
আমার দুর্গার দৈন্যদশা লাঞ্ছিত হয় প্রতি পদে
তোমার দুর্গা মণ্ডপে দাঁড়ায়ে সার্থক মনোরঞ্জিনী
হায় ! আমার দুর্গা শ্রম-ভালোবাসা দিয়েও ব্যর্থ মনোরঞ্জিনী
দশমীতে তোমার দুর্গা বিদায় নেন মিষ্টি মুখে সিঁদুর খেলা আর বরণের শেষে
আর আমার দুর্গা চির বিদায় নেয় অত্যাচারে অগ্নিদগ্ধা কিংবা অন্য উপায়ে ।।




স্বত্ব সংরক্ষিত

©  সানন্দা নন্দী

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

"রাতের নীরবতা ভঙ্গ" - সানন্দা নন্দী


গভীর রাতে ঘুম ভাঙে বৃষ্টির শব্দে
রাতের নীরবতা ভঙ্গ হয় সেই শব্দে ,
শুনসান জন-মানবহীন রাস্তা বড় একাকিনী
রাস্তার ধারে সাজানো ল্যাম্পপোস্ট গুলি তার সাথী ।
হলুদ আলোতে আঁধার ঘোচাতে সে তৎপর
নেই কোনো ব্যস্ততা নেই কোনো ভীড়-ভাট্টা ,
ব্যস্ততা শুধু রাস্তার সারমেয়দের
উদ্দেশ্য তৎক্ষণাৎ নিরাপদ আশ্রয়ের।
পর্দাকে উপেক্ষা করে হলুদ আলো ঘরে ঠিকরে এসে পড়ে
গভীর রাতের অতিথিকে করি সাদরে আহ্বান ,
আলহাদে সে ছড়িয়ে পড়ে ঘরের চারদিকে
মিটি মিটি আলোতে বশীভূত আমি -
খানিকটা ইচ্ছাকৃতও বটে ।
বৃষ্টির ঝম ঝম শব্দ হাতছানি দিয়ে ডাকে
আর ঠান্ডা-শীতল বাতাস ভিজতে আশকারা দেয় ,
আলস্যের চাদর আর ঘুমন্ত বালিশকে সরিয়ে -
গুটি গুটি পায়ে চলে যাই একচিলতে ব্যালকনিতে ।
দু'হাত পাতি আকাশের নিচে
চাতকের মতো তৃষিত হৃদয় নিয়ে ,
ব্যস্ত হয়ে পড়ি গভীর রাতের জলকেলিতে
লিপ্ত থাকি বৃষ্টিকে মুঠো বন্দীর ব্যর্থ প্রয়াসে ।
ধীরে ধীরে আঁধারের কালিমা ঘুচতে থাকে
পূবের আকাশ ক্রমে ক্রমে ফর্সা হতে থাকে ,
রাস্তার হলুদ আলো ফিকে হয়ে আসে
বৃষ্টি তখনো ঝরছে অবিরত নিজ ছন্দে ,
চোখ-জোড়া বন্ধ করে নিঃশ্চুপ থাকি
বড় আন্তরিকতার সাথে আলিঙ্গন করি -
বৃষ্টির শীতল জলের ঝাপটাকে ।
             


                    *স্বত্ব নিজস্ব
             @ সানন্দা নন্দী






শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

"ফাঁকির ফাঁদে" - সানন্দা নন্দী


মধ্য রাতে ঘুম তাড়াতে
চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে
পড়তে যখন বসি
সত্যি বলছি পড়াতে তখন
মন লাগতে আর কি আমি পারি ?
চোখের পাতা বেজায় ভার
বিরাট হাই তুলি তাই
এদিক-ওদিক খালি তাকাই
চোখ দু'খানি খুঁজে বেড়ায়
মা জানি কোথায় ?
বাবার ভয়ে জোরটি করে
পড়তে বসি অনিচ্ছাতে
মন যে টানে ঘুমের দেশে
কি করি এখন উপায় ?
পরীক্ষা যে দু'দিন বাদে
দিয়েছি ফাঁকি চরম ভাবে
বুঝছি এখন হাড়ে-হাড়ে
পড়েছি আমি ফাঁকির ফাঁদে
পালাবার পথ বন্ধ প্রায়
আর যে নেই কোনো উপায়
বাধ্য হয়ে লক্ষী মতো
পড়ছি তাই পড়া গুলো
ভাইটি আমার রাখছে নজর
দিলেই ফাঁকি করবে নালিশ
ভগবান জানেন কটা পাবে বালিশ ?
বেতখানা তাই রাখাই আছে
বাবার মাথার পাশখানিতে
ঠাকুর ঠাকুর উতরে গেলে
রক্ষে পাবো কোনো মতে
আর দেবো না ফাঁকি মা গো
পাশ করিয়ে দাও কোনো মতে
দেব প্যারা পূজোর থালায়
কথা দিলাম শেষ বেলায় ।



                          ( স্বত্ব নিজস্ব )
                         ©  সানন্দা নন্দী

" পুনর্মিলনের দাবী " - সানন্দা নন্দী



আমার রূপে তুমি ছিলে মুগ্ধ
আমার গুণে মুগ্ধ ছিল তোমার স্বজন,
দেনা-পাওনার হিসেবটা মিটে যেতেই
ঠিক হলো শুভ দৃষ্টির দিনক্ষণ।
চার হাত এক হলো শুভ লগ্নে
শুধু এক হলো না তোমার আমার চিন্তা-ধারা,
মেয়েদের মানিয়ে নিতে হয়-
এটাই যে সংসারের চরম বাস্তব।
ভালোবাসা দিয়েছিলে ঠিকই-
কিন্তু তাতে খাদ ছিল কিঞ্চিৎ,
ক্রমে ক্রমে রূপের মোহ কাটিয়ে
অবহেলা-অবজ্ঞা জায়গা করে নিল তোমার মনেতে-
চরম লাঞ্ছনাময় সে জীবন।
পিছুটান যেটা জন্মেছিল
সেটা তোমার প্রতি তীব্র ভালোবাসা আর অন্ধ বিশ্বাস,
উপহাস করে তুমি বলতে-
মিছে আমার ভালোবাসা
সবই নাকি বন্দী ঐ মানি-ব্যাগের নোটে !
অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতাম তোমার দিকে।
মানিয়ে নিতে নিতে কোণ ঠাসা - বড়ো ক্লান্ত
তীব্র যন্ত্রনাময় এ জীবন
অথচ প্রতিশ্রুতি ছিল সুস্থ স্বাভাবিক জীবনের
নিজ হাতে ভঙ্গ করলে সে প্রতিশ্রুতি
ভাবলে না সম্পর্কের ভবিষ্যৎ ।
সব কিছুকে উপেক্ষা করে চলে এলাম বাবার কাছে
তুমি খোঁজ টুকুও নিলে না
নিজেকে সামিল করলে অন্য জীবলে -
বড়ো বিশৃঙ্খল সে জীবন
হারিয়ে ফেললে নিজ সত্তা নিজের অজান্তে ।
লোক মারফৎ বার্তা পাঠালে মুক্তির
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে নিঃশ্চুপ তোমার স্বজন
নিরুপায় আমি - নিরুপায় আমার স্বজন
তাই দ্বারস্থ আজ আদালতের -
দাবী সম্পর্কের পুনর্মিলনের ।
আইনের ধারাতে স্বজ্ঞানে বন্দী দু'জনে
লড়াইটা চলছে সমানে - সমানে
মাঝে সাজে দেখা হয় বিপরীত বেঞ্চে
তুমি ব্যস্ত ভাঙনে -
আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ নব গড়নে।
বছরের পর বছর চলছে যে লড়াই
জানি না কার হবে হার - কারই বা জিৎ ?
তবু প্রত্যাশায় থাকি তোমার ফেরার -
আমাদের সম্পর্কের পুনর্মিলনের ।



                        ( স্বত্ব নিজস্ব )
                     ©  সানন্দা নন্দী