কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

" সেদিন " - মনোজ রায়


মনে পরে সেদিনের সেই দিনটি?
যেদিন বসে ছিলাম তুমি আর আমি
করে অধিকার পার্কের সেই কোনটি।

একটানা বৃষ্টি পড়ছিল মুষল ধারায়।
চেয়েছিলাম ভিজতে, কিন্তু পারিনি
তাই এসেছিলাম দুজনে এক ছাতার তলায়।

নিঃশব্দে কাটিয়েছিলাম অনেকটা সময়
একে অপরের দিকে চেয়ে, কি যেন
এক অদ্ভুত অনুভূতি জেগেছিল অন্তরময়।

হয়তো তুমিও বুঝেছিলে সেই অনুভূতি-
সেদিন কিছুই বলতে পারিনি।
ভয় ছিল মনে, তোমায় হারাই যদি...।

বৃষ্টি থামলে... করছিলে তাড়াহুড়ো
"বাড়ি যেতই হবে, হয়েছে দেরি"
ঘড়িতে তখন বেজেছিলো পাঁচটা বারো।

তুমি গেলে চলে নিজের পথ ধরে;
যেন আরো কিছু সাথে নিয়ে-
ভাবিনি নেবে তুমি আমাকেও আপন করে॥


                                      ©  মনোজ রায়  ©

" মেশানো উষ্ণতা " - ধ্রুব বিকাশ মাইতি


আমি মিশে গেছি......
অসময়ের বাঁধভাঙা বৃষ্টির শীতল মেজাজে,

সে আমায় গভীর শ্বাসে নিমেষের মধ্যে
বার বার জড়িয়ে ধরেছে আগন্তুক পথে,

শরীরগুলো সব লতিয়ে লতিয়ে পড়ছে I

ওরা যে ভালোবাসায় মিলনের কাঙাল!
তোমরা ওদের একটু ভালোবাসা দাও;
দেখবে ওরাও উজার করে সবটাই দেবে।

কিছু মানুষ-জন দেখি সবুজ মাঠে-ঘাটে
ওদের সাথে জড়াজড়ি করছে তৃষ্ণায়।

আর আমি কিছুক্ষণ আদর করার পর
লুকোতে চেয়েছিলাম কারোর বারান্দায়..
কিন্তু তখনও দেখি আমায় জড়িয়ে রেখেছে,
দুজনের মিলনের নতুনে মেশানো উষ্ণতা
মাটিতে ঝরছে বাসন্তিকের নব আবেগে।

তারপর আবার অনেকটা... সময় মিশেছি।


                                © ধ্রুব বিকাশ মাইতি ©

মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

" খেলনাপাতি " - শিবাশিস মৌলিক


মন কি তোর খেলনাপাতি?
খেলবি শুধুই ভাঙাচোরার খেলা!
খেলনাবাটি নিয়েও তো
 স্বপ্ন দেখে মেয়েরা —
মা সেজে সংসার করার।

বয়স বাড়লে স্বপ্নে বদল হয়
বদলায় মানুষের মন!
প্রয়োজনে বদলায় সঙ্গীও।
তা বলে অকারণে?

তোর সঙ্গে খেলব ভাবি
অন্তহীন খেলা,
হার-জিতহীন খেলা।
তুই বারবার খেলা ঘেঁটে দিস
নষ্ট করিস সময়,
জেতার সুযোগ।

আমি হারলেই কি জিতিস তুই?
নাকি হেরে গিয়েই
মিলিত হই দুজনে।
পরাজিতের আসনে
আমি তুই একাকার।



                                           © শিবাশিস মৌলিক ©

" একটু আশা " - বিউটি ঘোষ


তোর জন্য স্বপ্ন দেখি নয়ন ঠুলি উঠিয়ে তাই-
বিশ্বজগৎ কাঁপিয়ে দিয়ে বলবো শুধু তোকেই চাই।
লিখে দেখো চলার পথে জানবে প্রতি ধূলিকণা,
আমি আপন পথভুলা যে, হতে পারিস তুই আনমনা।
ফিরিয়ে নিয়ে আসবো আমি স্বর্গ পথেও দেবো পাড়ি।
ভাঙ্গবো আমি হাজার দুয়ার স্বর্গ পথে ওই যে তারই।
দত্যি-দানব এক হয়েছে কেড়ে নিতে আমার গতি, 
আমার অহং গতির ধারায় দেখবো তাদের পরিণতি।
শুকনো কাঠেও ধরবে যে ওই পুষ্পশাখার হাজার শাখি;
আজও আমি বিশ্বমাঝে তোকে নিয়েই স্বপ্ন আঁকি॥

                                          © বিউটি ঘোষ ©

" জীবনপণ " - আবুল হাসেম


ভাবনাশক্তির প্রখরতাই আমি দর্শন পেয়েছি সেই জগৎ,
যা সবার দৃষ্টির অগোচর।
কল্পনাময় জগৎ থেকে তাকে বাস্তবে টেনে আনবোই আপন শক্তিতে।
মানব মনের পশুত্বকে বশ করবো আপন ভাবনা শক্তির তীব্র প্রভাবে।
নবজাতকের অবতারে প্রবেশ করাবো আপন চিন্তন শক্তি।
মানবের অন্তরে লিপিবদ্ধ করবো আপন ভাষা। 
তাদের মুখের ভাষাই আমার প্রাপ্তি
দেবে গতি আপন পথের ধারায়।
সেই ভাবনাতেই জাগ্রত চিত্তে রয়েছি সদা।


                                                © আবুল  হাসেম ©

" মস্ত লেখক " - অরুণোদয় ভট্টাচার্য



 আমি মস্ত লেখক সারা রাত জেগে রই
 আমার মাসে মাসে মোটা মোটা বেরচ্ছে বই ।
 আমার ছড়া যায়না পড়া
  ছন্দমিলের বালাই ছাড়া,
  গল্প আমার যুগান্তকারী
  মুড়ো-ল্যাজা কেউ না পায় থৈ ।

 আমার প্রতিভা সে আবার বহুমুখী,
 নাটক যা লিখি ফর খোকা-খুকী ।

 উপন্যাসের এমন বিন্যাস
 জানত কেবল গ্রেট বেদব্যাস,
 আমার essay প'ড়ে হেসে
 কুটোপাটি নিজে যে হই ।


                                        © অরুণোদয় ভট্টাচার্য ©

"রাজপুত্তুর ও রাধিকা" - সঙ্ঘমিত্রা প্রামাণিক চ্যাটার্জ্জী



রাজপুত্তুর, দূরের থেকেই দেখবি রাধিকাকে?
রাধিকা যে হৃদমাঝারে তোর সঙ্গেই থাকে।
আলতো করে আঙুল ছুঁবি আপাদমস্তক?
আমার পাতা লুকিয়ে দেখিস? তুই দুষ্টু লোক।
সোজা কথা হারিয়ে গেছে ধরেছি কবিতা ছুতো।
তোকে দেখে আগের মতোই ভীষণই আপ্লুত।



  © সঙ্ঘমিত্রা প্রামাণিক চ্যাটার্জ্জী ©

"উত্তরণ" - শিল্পী মণ্ডল



বছর শেষে বছর আসে নতুন আলোর সাজে,
আবার শুরু হিসাব কষা চাওয়া পাওয়ার মাঝে।
কি হারালাম, কি বা পেলাম অংক মেলা ভার,
রঙিন স্বপ্ন সাজিয়ে দেব জীবন তরী পার।
নতুন আশায় সঞ্চারিত করব আবার প্রাণ,
নতুন সুরে বাঁধব আবার জীবনপুরের গান॥



                   © শিল্পী মণ্ডল ©

"কবিতার অপেক্ষায়" - রণবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

তোমার সাথে যখন বলি একটুখানি কথা
কবিতা আসে, কোথা থেকে আসে ভাষাগুলো—
ভাষারাই শুধু জানে আমার ভাষার মানে,
কে যেন উঁকি দেয়, তোমারই মতো করে
মনে আচমকা, দমকা হাওয়া উত্তর কোণ
থেকে শিরশির করা পরশ আনে— কবিতার॥

এখন কার্তিকের হিমেল রাত—
তোমার উষ্ণতা কবিতায় স্পর্শ করে
আমার শরীর; অমাবস্যার আকাশ
সঙ্গী, কবিতা নিয়ে একা অন্ধকারে ;
এখন ঝিরঝিরে হাওয়া উত্তরের,
আর নিঃশব্দ শব্দের সপ্রেম উচ্চারণ—
সৃষ্টি কবিতার আমার অদ্ভূত নিস্তব্ধতায়,
অন্তহীন প্রতীক্ষার অবসান কবিতায়॥                                                                    
     © রণবীর বন্দ্যোপাধ্যায় ©

শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯

" দেওয়াল লিখন " - অভিষেক ঘোষ



হাত তুললে হাত,
পা তুললে পা,
ভুখা হরতালে মশলা মুড়ি
অথবা প্রচন্ড শীতে খালি গা।
অস্ফুট চীৎকারে হাততালি
বা স্তুতিগানের ফুলঝুরি,
দলে আছো খোকা..
তবেই না আমাদের মতো তুমি,
কাল ফাঁকা চেয়ারের উত্তরসূরি।
বা বা বেশ, যা বলছি শোনো...
নিয়ম, হ্যাঁ হ্যাঁ যেগুলো বলেছি,
মাথায় পেরেক মেরে ঢোকাও
শুধু সেগুলিই নিয়ম..
এই যে ক্ষুধার্ত তরুণ আমাদের অমুক দলে
অমুক গ্রুপে আছো তো,
হ্যাঁ হ্যাঁ মেনে চলো চলো....
তন্ত্র নামক যন্ত্রটা দিন দিন রূপসী হচ্ছে
বিভিন্ন নামে।
আসলে সত্যিটা হল জন ছাড়া দল মৃত।


                                                           
   © অভিষেক ঘোষ ©

বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯

" কবিতা " - অরুণোদয় ভট্টাচার্য


কারো স্মৃতি ম্লান ফুলে 
কারো কোন ফলকে— 
কারো কথা মন ভোলে 
দু চোখের পলকে ! 

তোমার সামনে আমি 
তবু তুমি কী উদাস! 
মেঘ-ছায়া ভাসে চোখে, 
কেন হোলে দেবদাস? 

সংগীতে ভরে মন, 
স্মৃতিপথ ধরে ধায়— 
কত সম্পর্কের 
ভাঙা-গড়া ছুঁয়ে যায় !


  © অরুণোদয় ভট্টাচার্য ©

রবিবার, ১৯ মে, ২০১৯

" পুনরাবর্তন " | শিল্পী মণ্ডল


ওই শোনা যায়, ধর্মের  অট্টহাসির শব্দ ...
দুই দলের খেলায় আবার মানুষ হচ্ছে জব্দ।
মানুষে মানুষে হানাহানি, আর সেই চিরস্থায়ী দ্বন্দ্ব।
ধর্ম আজও সেই সাম্প্রদায়িকতার মুখ্য প্রতিবন্ধ॥
ধর্ম আর রাজনীতির সেই পুরাতন ঘৃণ্য সন্ধি, 
মানবিকতা হয় যেখানে নিঃশব্দে বন্দি।
ধর্মের নামে মানুষ খুনের চরম নির্মম সত্য
আজও যেন সেই রক্ত ঝড়ানো ইতিহাস অনবদ্য।
ইতিহাস আজ আবার জেগেছে নৃশংসতার ছোঁয়ায়...... 
মানবিকতা ঢাকছে আবার ধর্মের অন্ধ মায়ায়॥


                                                                                              
                                         শিল্পী মণ্ডল ©

" ইচ্ছে " | অক্ষয় মণ্ডল


মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে, পাখি হয়ে যাই।
পাখিদের কত মজা, জানি আমরা সবাই II
এখন আমি আকাশটাকে, দেখি চেয়ে চেয়ে।
পাখি হলে বলতাম কথা, তার সাথে গিয়ে॥
হতাম আমি বন্য পাখি, ঘুরতাম নানা দেশ।
গাছেদের সাথে আমি বলতাম কথা বেশ॥
পাখি হয়ে আকাশেতে দিতাম আমি পাড়ি।
পাড়ি দিয়ে যেতাম আমি মেঘেদের বাড়ি॥
দেখতাম চেয়ে মেঘগুলো সব ওড়ে কেমন করে।
উড়তাম আমি সারাটা দিন মস্ত আকাশ জুড়ে॥
কিন্তু যদি পড়ি ধরা কোনো শিকারির ফাঁদে।
জীবন আমার হবে বৃথা, মরব কেঁদে কেঁদেII
এই কথা ভাবি যখন, বড়ই কষ্ট হয়।
পাখি হওয়ার ইচ্ছে আমার, ধুলোয় মিশে যায়॥


                                                                                        
                                  অক্ষয় মণ্ডল ©

বৃহস্পতিবার, ৯ মে, ২০১৯

" জীবনপণ " | আবুল হাসেম



ভাবনাশক্তির প্রখরতাই আমি দর্শন পেয়েছি সেই জগৎ,
যা সবার দৃষ্টির অগোচর।
কল্পনাময় জগৎ থেকে তাকে বাস্তবে টেনে আনবোই আপন শক্তিতে।
মানব মনের পশুত্বকে বশ করবো আপন ভাবনা শক্তির তীব্র প্রভাবে।
নবজাতকের অবতারে প্রবেশ করাবো আপন চিন্তন শক্তি।
মানবের অন্তরে লিপিবদ্ধ করবো আপন ভাষা। 
তাদের মুখের ভাষাই আমার প্রাপ্তি
দেবে গতি আপন পথের ধারায়।
সেই ভাবনাতেই জাগ্রত চিত্তে রয়েছি সদা।


                                                                                                   
                                           আবুল  হাসেম ©

সোমবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৮

" পৃথক দুর্গা " | সানন্দা নন্দী


তোমার দুর্গা মাটির প্রলেপে নিখুঁত তৈরি প্রাণহীন মূর্তি
আমার দুর্গা অনুভূতি পূর্ণ রক্ত-মাংসে গড়া জ্যান্ত মানুষ রূপিণী
তোমার দুর্গার প্রতি বছর আশ্বিন মাসে ধুমধামে মর্ত্যে আগমন
আমার দুর্গা এখনো অবাঞ্ছিত তাই মাতৃ গর্ভেই মৃত্যু বরণ
তোমার দুর্গা বেনারসী শাড়ী ও অলঙ্কারে সুসজ্জিতা
আমার দুর্গা ছেঁড়া বসনে কোনো ক্রমে লজ্জা নিবারণী
তোমার দুর্গার কুঞ্চিত সুবিন্যস্ত কেশরাশি
আমার দুর্গার তেলহীন অবিন্যস্ত রুক্ষ কেশরাশি
তোমার দুর্গা জগৎ জননী মহিষাসুর মর্দিনী
হায় ! আমার দুর্গা এখনো যে ধর্ষকের যৌন শিকার
তোমার দুর্গার অর্ঘ্যর তরে ব্যয় হয় রাজকোষ
হায় ! আমার দুর্গা মেধাবী হয়েও অর্থাভাবে মধ্য শিক্ষায় সমাপ্ত
তোমার দুর্গার ভরা সুখের সংসার স্বামী সন্তান নিয়ে
আমার দুর্গা পরে থাকে পিত্রালয়ে যৌতুকের অভাবে
তোমার দুর্গা সাগর পাড়ি দেয় পূজিত হবেন বলে
আমার দুর্গা আজো পতিতা হয় দারিদ্রতা ঘোচাতে
তোমার দুর্গা পূজিত হন ভক্তি ভরা মন নিয়ে
আমার দুর্গার দৈন্যদশা লাঞ্ছিত হয় প্রতি পদে
তোমার দুর্গা মণ্ডপে দাঁড়ায়ে সার্থক মনোরঞ্জিনী
হায় ! আমার দুর্গা শ্রম-ভালোবাসা দিয়েও ব্যর্থ মনোরঞ্জিনী
দশমীতে তোমার দুর্গা বিদায় নেন মিষ্টি মুখে সিঁদুর খেলা আর বরণের শেষে
আর আমার দুর্গা চির বিদায় নেয় অত্যাচারে অগ্নিদগ্ধা কিংবা অন্য উপায়ে ।।




স্বত্ব সংরক্ষিত

©  সানন্দা নন্দী

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

" আন্তরিকতা টুকুই আছে " - সঙ্ঘমিত্রা প্রামাণিক চ্যাটার্জ্জী


আমার ঘরে আসবে তুমি?
অট্টালিকা নয়গো আমার
না আছে আমার মস্ত বাড়ি
নাহ্!! তাও নেই ঘোড়া গাড়ি।
না আছে ভাই এ.সি র হাওয়া
হোম থেয়েটারও নেই ভেতরে
ওসব আমার কিচ্ছুটি নেই
এর পরেও আসবে ঘরে?
আসতে যখন চাইছো এতো
অবশ্যই আসতে পারো
কার কী আছে বুলির পাহাড়
শোনার সাধ নেই আমারও।
আমারও আছে অনেক কিছু,
কবিতা আছে ঝুড়ি ঝুড়ি।
শোনার যদি সাধ হয়তো—-
বললে, আমি শোনাতে পারি।
ঐশ্বর্যের বাহারও নেই
দাস-দাসীও নেই একটিও ভাই
নিজের হাতে রান্না খাবার যত্ন করে তাই দিতে চাই।
যদি না তা ভালো লাগে তবে তুমি দূরেই থেকো
আন্তরিকতাই চাইলে শুধু আমার ঘরে তুমি এসো।

     © সঙ্ঘমিত্রা প্রামাণিক চ্যাটার্জ্জী 

" রোমন্থন " - অমিত


তোমার জন্য আকাশের চিল
মাটিতে এসেছে নেমে
একঝাঁক কাক রাজপথে বসে
চলাচল গেছে থেমে,
তুমি হাঁটতেই ভরা রোদ্দুরে
রামধনু ফুটে গেল...
ইতিউতি ওড়া একাকী শালিখ
সঙ্গিনী খুঁজে পেল।

তুমি ছিলে তাই হাল্কা বৃষ্টি
লাজুক হাওয়ার মাঝে,
এফ.এম বেতারে কৈশোরে
শোনা হারানো গানটি বাজে।
তোমার জন্য কুয়াশা-বিকেল
মোমবাতি জ্বলা রাত,
তুমি দাঁড়াতেই বন্যার জল
আটকে দিয়েছে বাঁধ!

তুমি ছিলে তাই বনানীর কুঁড়ি
ফুল হয়ে ফুটেছিলো,
গ্রহণেরও রাতে একফালি চাঁদ
জোছনা ছড়িয়ে দিলো,
তোমার জন্য বিদেশী নাবিক
মাতাল হওয়ার আগে,
ময়ূরপঙ্খী নাও ভাসালো গো
সাঁঝের অস্তরাগে।

তুমি আছো বলে মাঝদরিয়ায়
এখনো জাহাজ চলে,
স্তব্ধতাগুলো কাব্যিক হয়
নির্মম কোলাহলে।

তোমার জন্য বদ্ধহৃদয়
গোপন রক্তক্ষরণ...
তোমারি জন্য তীব্র আকুতি
সতত রোমন্থন!


© অমিত ©

" তোমার সঙ্গে, তোমার জন্যে " - রণবীর বন্দ্যোপাধ্যায়


আকাশে ছড়িয়ে দিয়েছি রঙ লাল,
তোমার জন্য।
পথে ছড়ানো কৃষ্ণচূড়ার হলুদ,
তোমার জন্যে।
শান্ত হয়ে আসছে পাখিদের কলরব—
বসবো এখন তোমার পাশে অনেকক্ষণ
তোমারই জন্য।

ভেবে এসেছিলাম—
শোনাবো সদ্য লেখা কবিতাটা—
দেখছিলাম কিন্তু -
লাল লিপস্টিক মাখা ঠোঁটে তোমার,
জলন্ত সিগারেট
দারুণ মেকআপ করা গালের নিচে।

কবিতার শব্দগুলো ভাষা পেল—
সিগারেটের ধোঁয়ায় মিশে গেল॥

প্রাণটা থাকলো না,
থাকলো কবিতার খাতা
কালো অক্ষর ভরা,
পড়লো কিছু ছাই
খাতার পাতায় আর—
তোমার উচ্চকিত হাসি,
তোমার লাল লিপস্টিক
রক্তিম করলো আমার শরীর॥

শেয়ারের দামের ওঠানামা,
মিউচুয়াল ফান্ডের হিসেব
আর মেডিক্যাল ইন্সুরেন্স,
কবিতা লিখে গেল
আমার খাতার পাতায়।

আকাশ এখনো হয় লাল,
কৃষ্ণচূড়া হলুদ এখনও ;
অনেকক্ষণ এখন—
হুইস্কি আর সিগারেট নিয়ে
তোমারই জন্য
তোমার সঙ্গে বসি॥


                © রণবীর বন্দ্যোপাধ্যায় ©

"রাতের নীরবতা ভঙ্গ" - সানন্দা নন্দী


গভীর রাতে ঘুম ভাঙে বৃষ্টির শব্দে
রাতের নীরবতা ভঙ্গ হয় সেই শব্দে ,
শুনসান জন-মানবহীন রাস্তা বড় একাকিনী
রাস্তার ধারে সাজানো ল্যাম্পপোস্ট গুলি তার সাথী ।
হলুদ আলোতে আঁধার ঘোচাতে সে তৎপর
নেই কোনো ব্যস্ততা নেই কোনো ভীড়-ভাট্টা ,
ব্যস্ততা শুধু রাস্তার সারমেয়দের
উদ্দেশ্য তৎক্ষণাৎ নিরাপদ আশ্রয়ের।
পর্দাকে উপেক্ষা করে হলুদ আলো ঘরে ঠিকরে এসে পড়ে
গভীর রাতের অতিথিকে করি সাদরে আহ্বান ,
আলহাদে সে ছড়িয়ে পড়ে ঘরের চারদিকে
মিটি মিটি আলোতে বশীভূত আমি -
খানিকটা ইচ্ছাকৃতও বটে ।
বৃষ্টির ঝম ঝম শব্দ হাতছানি দিয়ে ডাকে
আর ঠান্ডা-শীতল বাতাস ভিজতে আশকারা দেয় ,
আলস্যের চাদর আর ঘুমন্ত বালিশকে সরিয়ে -
গুটি গুটি পায়ে চলে যাই একচিলতে ব্যালকনিতে ।
দু'হাত পাতি আকাশের নিচে
চাতকের মতো তৃষিত হৃদয় নিয়ে ,
ব্যস্ত হয়ে পড়ি গভীর রাতের জলকেলিতে
লিপ্ত থাকি বৃষ্টিকে মুঠো বন্দীর ব্যর্থ প্রয়াসে ।
ধীরে ধীরে আঁধারের কালিমা ঘুচতে থাকে
পূবের আকাশ ক্রমে ক্রমে ফর্সা হতে থাকে ,
রাস্তার হলুদ আলো ফিকে হয়ে আসে
বৃষ্টি তখনো ঝরছে অবিরত নিজ ছন্দে ,
চোখ-জোড়া বন্ধ করে নিঃশ্চুপ থাকি
বড় আন্তরিকতার সাথে আলিঙ্গন করি -
বৃষ্টির শীতল জলের ঝাপটাকে ।
             


                    *স্বত্ব নিজস্ব
             @ সানন্দা নন্দী






" বৈষ্ণব কবিতা " - সুফি রায়






আজি ঝরঝর মুখর         বাদল খরশর....
       শ্যাম বিনা আঁখি নাহি চায়।
মেঘ গরজিছে,        মত্ত দাদুরী ডাকিছে
          মোর পরাণ উথলি যায়॥
ওই সেথা দূরে          কুঞ্জ-বাসরে
        শ্যাম বুঝি বসি আছে।
তার বাঁশি শুনি,       হৃদয়ে প্রমাদ গণি
        যায় সে আন বাড়ি পাছে॥
চল চল চল           মোরে নিয়া চল
       আর যে সহিতে নাহি পাই।
ওরে ওরে বড়াঞি         সখী হে হামারি
          কানুরে দেখি সব ঠাঁই॥
ওই যে যমুনাকুলে        দেখহ কদম-মূলে
         কেন সে আমারে ছলি।
ওই সে বসি        কালো মেঘে ভাসি
       যায় সে কার ঘরে চলি॥
ওই দেখা যায়          ধেণু সে চড়ায়
            মোহন বাঁশি পুরিয়া।
দেখ দেখ সখী         ময়ূর-পুচ্ছ ধরি
          কেমনে ভুলায় নাচিয়া॥
অঙ্গে পীত বসন     রঙ্গে নাগিনি যেমন
           হেলিয়া দুলিয়া মন ভায়।
ও কালো বরণ       ডাকিল আমার মরণ
          এবে কি করিনু হায় হায়॥
মাথায় কবরী বাঁধি       কর্ণে কুণ্ডল গাঁথি
        বাজুবন্ধ আর রতনে সাজি।
ওই মুকুতা-দশন,              রূপ অবর্ণন
              হাম কলঙ্ক নিতে রাজি॥
শেষে কবি ভণে                এ অসম রণে
            কে কবে জিতিয়াছে আর।
কালা যে পিরীতি-নাগ       রাধারে পাইলে বাগ
           দংশিয়া করিবে ছাড়খার॥



                                                                                     © সুফী রায়