সুফি রায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সুফি রায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

"আশীর্বাদী" - সুফি রায়





— তোমার আমাকে কিছু বোঝাতে হবে না বৌদি। আমার স্বামীকে আমি চিনি। 
— কোনো মেয়ে নিজের সম্মানহানির কথা বানিয়ে বলে না শর্বরী। 
— আমার দাদা নেই বলে বেলেল্লাপানা করতে শুরু করে দিয়েছ?? ছি ছি!! কিনতু তোমার মত এমন কুহকিনী মেয়েমানুষ বললেই তো আর আমার এমন দেবতার মত স্বামীর চরিত্রে কলঙ্ক লেগে যাবে না!! 
— আমারই ভুল ছিল শর্বরী, ক্ষমা করো। পাপ তো জীবনে অনেক করেছি, তার শাস্তিই হয়ত পাচ্ছি। কিনতু জীবনে যদি কোনো পুণ্য করে থাকি, তবে আমার সমস্ত পুণ্য একত্র করে তোমাকে আশীর্বাদ করছি... তোমার ছেলেও যেন বড়ো হয়ে ওর বাবার মতো হয়।


                                                               
                                                    © সুফি রায় ©

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

" বৈষ্ণব কবিতা " - সুফি রায়






আজি ঝরঝর মুখর         বাদল খরশর....
       শ্যাম বিনা আঁখি নাহি চায়।
মেঘ গরজিছে,        মত্ত দাদুরী ডাকিছে
          মোর পরাণ উথলি যায়॥
ওই সেথা দূরে          কুঞ্জ-বাসরে
        শ্যাম বুঝি বসি আছে।
তার বাঁশি শুনি,       হৃদয়ে প্রমাদ গণি
        যায় সে আন বাড়ি পাছে॥
চল চল চল           মোরে নিয়া চল
       আর যে সহিতে নাহি পাই।
ওরে ওরে বড়াঞি         সখী হে হামারি
          কানুরে দেখি সব ঠাঁই॥
ওই যে যমুনাকুলে        দেখহ কদম-মূলে
         কেন সে আমারে ছলি।
ওই সে বসি        কালো মেঘে ভাসি
       যায় সে কার ঘরে চলি॥
ওই দেখা যায়          ধেণু সে চড়ায়
            মোহন বাঁশি পুরিয়া।
দেখ দেখ সখী         ময়ূর-পুচ্ছ ধরি
          কেমনে ভুলায় নাচিয়া॥
অঙ্গে পীত বসন     রঙ্গে নাগিনি যেমন
           হেলিয়া দুলিয়া মন ভায়।
ও কালো বরণ       ডাকিল আমার মরণ
          এবে কি করিনু হায় হায়॥
মাথায় কবরী বাঁধি       কর্ণে কুণ্ডল গাঁথি
        বাজুবন্ধ আর রতনে সাজি।
ওই মুকুতা-দশন,              রূপ অবর্ণন
              হাম কলঙ্ক নিতে রাজি॥
শেষে কবি ভণে                এ অসম রণে
            কে কবে জিতিয়াছে আর।
কালা যে পিরীতি-নাগ       রাধারে পাইলে বাগ
           দংশিয়া করিবে ছাড়খার॥



                                                                                     © সুফী রায় 

সোমবার, ১১ জুন, ২০১৮

" প্রশ্ন " - সুফি রায়


সকালবেলায় ঘুম ভাঙল প্রভাতফেরীর বাজনা শুনে।
ছোট্ট খোকন দৌড়ে গেল মনে অনেক প্রশ্ন নিয়ে॥
সামনে সবার গেরুয়া পোশাক,তার পিছনে সাদার সারি।
ঐ দেখা যায় সবুজ পোশাক,দেখতে মজা লাগছে ভারি॥
খোকন শুধায়,"হ্যাঁ গো মা,ওরা যাচ্ছে কোথা এমন সাজে?
সকালবেলায় গাইছে গান,ধাই-ধমা-ধম মাদল বাজে"॥
আলতো হাতে আদর করে মা হেসে কন,"তাও জানিস নে?
আজ যে মোরা স্বাধীন হলেম,কত শত প্রাণের দানে॥
দেশের মাটি ডাক দিল যেই,ছুটল তারা আপন ভুলে।
ভায়ের অশ্রু পান করে যায় মৃত্যুনদী অবহেলে॥
পরের ঘরের বন্দীদশায় মায়ের আঁচল লুটায় ভূমে।
নিজের রক্ত ফেরি করে মায়ের মুকুট আনল জিনে॥
তাঁরাই সকল শহীদ যারা করল এমন মৃত্যুবরণ।
তাঁদের জন্যই নতুন ঊষা,আশা-ভরসা,জীবন যাপন"॥
খোকন শুধায়,
"নিজের জীবন দিলযারা,তাদের জন্য একটিই দিন?
আর বাকি দিন ভুলেই থাকে,মানুষ কেন এমন হীন?
বলতে পারিস,কোন দুখেতে নিজের জীবন করল পণ?
কোন সুখেতে মৃত্যুমুখেও বল মা ওদের ভরল মন?
আমার মতন ওঁরাও তো মা ছিল কারোর খোকনসোনা--
তাদের জন্য একবারও তো তোমার চোখটা ভিজল না..?
আমায় তবে জাগাস নে মা,আর একটুকু ঘুম যাই।
স্বপ্নঘোরে তাঁদের পায়ে হাতটা আমার ছোঁয়াই"॥
খোকার কথায় মায়ের মনে সে এক বিষম লাজ।
মন বলে তার এ এক বুঝি আধুনিকতার সাজ॥


বি: দ্র:- জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীকে আমাদের পক্ষ থেকে সশ্রদ্ধ প্রণাম। 

সেই সঙ্গে বর্তমান কাল পর্যন্ত দেশের প্রতি বলিপ্রদত্ত মহৎপ্রাণদের প্রতি এই কবিতাটি উৎসর্গীকৃত। 


                                                     - সুফি রায়
                                              © Copyright Protected









সোমবার, ৭ মে, ২০১৮

" ছন্দপতন " - সুফি রায়


নতুন মলজোড়াটা হাতে করে বসে আছে শফরী। গালে নোনা জলের দাগ বসে গেছে। গলা-বুক ভিজে গেছে জলে। কিন্তু চোখের জল যে আজ বাধা মানছে না কিছুতেই। যার কারণ খুঁজতে গিয়ে শফরী তোলপাড় করে ফেলছে তার চার বছর আগেকার জীবন।

    আসলে আজ তার জীবন থেকে চঞ্চল চলে গেল। চঞ্চল তার বন্ধু মাত্র। কিন্তু....। আসলে সেই কলেজের ফার্স্ট ইয়ার থেকেই চঞ্চল ওকে ভালবাসে। শুধু ভালবাসে বললে অনেক কম বলা হয়। শফরীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সবকিছুই ছিল চঞ্চলের ভালবাসা। কিন্তু শফরীকে সেটা জানিয়েই চরম ভুল করেছিল ও। তারপর থেকে এতগুলো বছর চঞ্চলকে এড়িয়েই চলছিল শফরী। এরমধ্যে সোহম এসেছে তার জীবনে। দুবছরের প্রেম পরিণতি পেতে চলেছে এবার। কিন্তু ঠিক তার আগেই জীবনের ছন্দটা একটু অচেনা সুরে বাজল।

    গতকাল বিকেলে হঠাৎ একটা অজানা নম্বর থেকে ফোন--
   -কি রে.. চিনতে পারছিস?
   -চঞ্চল তুই? কেন চিনব না?
    শফরী সত্যিই চিনেছিল। কেন চিনবে না সে? যতই হোক, খুব ভাল বন্ধু ছিল তারা।
   -বিয়ে করছিস যে জানালি না তো..?
   -আরে সেরকম কিছু নয়। আসলে তোর নম্বর ছিল না তো। তুই কোথায় পেলি আমার নম্বর?
   -মোহনের থেকে। যাই হোক,কাল একবার মিট করতে পারবি? তোর বিয়ের গিফ্টটা নিবি না? আমি তো আর তোর মত কিপটে নই।
    দুজনেই হেসে গড়িয়ে পড়েছিল।
   -এখনো আগের মতই আছিস দেখছি। ওকে.. তবে কাল বিকেলে  কলেজ 

স্ট্রীট মোড়,ওখান থেকে কফি হাউস। আবার আগের মতই।

আজ পৌঁছতে একটু দেরি হয়ে গেল শফরীর। রাস্তার ওপার থেকে তাকে দেখতে পেয়ে সাত দেখিয়ে সেখানেই দাঁড়াতে বলল চঞ্চল। ও আসছে এপাড়ে। আ..আ..! হঠাৎ তীক্ষ্ন হর্ন বাজিয়ে ক্যাঁচ শব্দ করে থেমে গেল গাড়িটা। মুহূর্তে সব অন্ধকার হয়ে গেল শফরীর।

    তারপর থেকে সবকিছু কেমন একটা ঘোরের মধ্যে দিয়ে ঘটে চলল। শফরী স্তব্ধ হয়ে গেছিল চঞ্চলের মৃত্যুর খবরটা শুনে। কানদুটো যেন ঝাঁ ঝাঁ করছে। একটু আগেই তো ছেলেটা দৌড়ে আসছিল তার সঙ্গে দেখা করতে,কথা বলতে। তবে?

   -মিস গাঙ্গুলি..?
    নার্সের ডাকে হুঁশ ফিরল শফরীর।
   -হ্যাঁ বলুন।
   -পেশেন্টের এই জিনিসগুলো..
    মনটা মোচড় দিয়ে উঠল। ওর বিয়ের উপহার নিয়ে এসেছিল ছেলেটা। শফরী ওকে ভালবাসা দিতে পারেনি ঠিকই। কিন্তু এতবছর পরে এক নতুন জীবন শুরু করার আগে সে কোন তিক্ততা রাখতে চায়নি সম্পর্কে। তাই দেখা করতে আপত্তি করেনি। কিন্তু এ কি হল..? কাঁপা হাতে প্যাকেটটা নিল শফরী। তাতে একটা মাঝারি মাপের বাক্স। রঙীন কাগজের মোড়কে তার নাম লেখা। চোখটা একটু ঝাপসা হয়ে আসল তার। বাক্সটা খুলে দেখে তাতে একজোড়া মল। শফরী পায়ে মল পড়তে খুব ভালবাসে। এখনো। সব সময় পড়ে থাকে। মলের সঙ্গে একটা চিরকুট ও রয়েছে। তাতে লেখা- "তোর নতুন জীবনের প্রথম পদক্ষেপ হবে আমার ছন্দে বাঁধা। তোর প্রতিটা শফরী-চঞ্চল পদক্ষেপে বাজবে আমার জীবনের সুর-ছন্দ।"

মুহূর্তে শফরীর বুকটা ভিজে গেল চোখের জলে। শফরীর নতুন জীবন ঠিকই, কিন্তু ও কিছুতেই নিজের মনকে বোঝাতে পারল না কেমন করে ওর এই নতুন জীবনেরই ছন্দপতন ঘটে গেল।

                                                                                                 © সুফি রায়








" আতসবাজি " - সুফি রায়

        "যার বাপের খাওয়ানোর মুরোদ নেই তার বাজি পুড়িয়ে ফুটানি করা চলে না। পিন্ডি জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছি.., আর লাট সাহেবের বেটি বাজি পোড়াবে..। সৎ মায়ের মুখ ঝামটা খেয়েই কেটেছে ঝিলমিলের সারাটা শৈশব। 

        "... .. দিদিইই...,আমার জন্য কী এনেছ??"
—-"আজকে একটা নতুন জিনিস এনেছি। এই বলে ব্যাগ থেকে প্যাকেটগুলো বের করে বোনের হাতে দিল ঝিলমিল।
—-"বাজিইইই..???? আআআ... মজা হবে।"

        রাতে আতসবাজির আলোয় যখন বোনের চোখদুটো চকচক করে ওঠে তখন ঝিলমিলের মধ্যেও জেগে ওঠে এক দ্বাদশী কিশোরী। আসলে মা তাকে সৎমেয়ে মনে করলেও বোনকে সে কখনোই সৎমায়ের মেয়ে ভাবেনি। তাই বোনের খুশিকে আকণ্ঠ পান করেই বাজি পোড়ানোর আশ মেটায় ঝিলমিল।

© সুফি রায়











" ভাইফোঁটা " - সুফি রায়



        নতুন বউ আসার পর থেকেই ভাইটা কেমন বদলে গেছে। ওকে মানুষ করার জন্য যে দিদি অবিবাহিত থেকেছে সেই দিদিকেই এখন ওর বোঝা মনে হয়। তাই বউকে নিয়ে চলে গেল আলাদা সংসারে। কিন্তু তাই বলে আজকের দিনেই চলে যাবে ও?? এভাবে, ভাইফোঁটা না নিয়েই!! দিদির কান্না কি ওর কানে গেলই না??

       ফোনটা বেজে উঠল। ওপাশে নতুন বউ কান্নায় ভেঙে পড়েছে, "তোমার ভাইয়ের অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে দিদি।" শুনে হঠাৎ ফ্যাকাশে হয়ে গেল অসীমা। কিনতু পরক্ষণেই তার ফ্যাকাশে মুখে খেলে গেল এক ক্রূর নিষ্ঠুর হাসি... "দেখলি তো ভাই, আমার থেকে ফোঁটা না নিয়ে কি ভুল করেছিস..!!"

                                                                                                        ©  সুফি রায়















"এমন কেন হয়?" - সুফি রায়



বলতে পারিস, এমন কেন হয়?
এখনো আমার মনটা কেন তোকেই ঘিরে রয়?

যখন তোকে প্রথম দেখি ছাদের চিলেকোঠায়,
বিকেলবেলার রোদ পড়েছে গাছের মাথায় মাথায়।
কীসের টানে হঠাৎ করে
স্বপ্নগুলো ঝাঁপিয়ে পড়ে,
খুলে দিয়ে মনের আগল, ভাসল উজানে।
বলতে পারিস, কোন তুফানে?
আজও আমার মনটা এমন উতল অকারণে।

সেদিন যখন বাড়ির পথে,তোর হাতটা আমার হাতে,
কেমন যেন এক শিহরণ জাগালো আমার বুকের মাঝে।
আজও খোঁজে আমার দুচোখ,
সেই দুটো হাত, নরম আদর---
সেই প্রথম দিনের আলতো ছোঁয়া
আজ যেন সব কালচে ধোঁয়া।
বলতে পারিস, কী ভুল ছিল?
তোর ঠিকানা বদলে গেল. . .

সেদিন যখন ঘুম ভাঙালি
"পথ আলাদা", বলতে এলি---
ভুলে গেলি সেই চেনা গান,
অনেক কথা, মান-অভিমান,
জানলি না তো কোনখানেতে গোপন ব্যথা বাজল,
কিসের ব্যথায় মনটা এমন মোচড় দিয়ে উঠল..।

বলতে পারিস,স্মৃতিগুলো তাড়িয়ে কেন বেড়ায়?
আজও আমার মনটা কেন শুধুই তোকে চায়?

                         
                                            ©  সুফি রায়

শুক্রবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

" তোমায় দিলাম " - সুফি রায়



তোমার মনে পড়ে,
একদিন বেহাগ-বসন্তের রাতে আমায় বলেছিলে
"আমার সমস্ত কিছু আজকে তোমায় দিলাম।"
সেদিন তোমার কোমল উষ্ণতা জড়িয়ে ছিল আমায়-
আর আমার মন কর্পূর হয়ে হাওয়ায় ভেসেছিল।

সেদিন আমিও আমার মন নিংড়ে
সমস্ত অনুভূতিটুকু তোমায় দিলাম।
আমার একলা দুপুরে ভিড় করে আসা চুপকথা
আমি তোমায় দিলাম।
আমার ওই নীল আকাশে মেঘের নৌকা,
আর সবুজ জলের শালুক ফুল-
আমি তোমায় দিলাম।

আমার সন্ধ্যাকাশের টিমটিম,
আর গভীর রাতের বিষণ্ণ একটুকরো চাঁদ
ঠিক আমারই মত-
আজ... তাও তোমায় দিলাম।
আর দিলাম, আমার কালি-কলম,
যার এক-একটা আঁচড়ে রূপ পায় তোমার কথারা-
আমার এই সব— আমি আজ তোমায় দিলাম।

তবু একদিন কথারা গত হয়,
থেমে যায় বেহাগের আলাপন-
তারাবাতিও নিভে যায় ঝুপ্ করে।
শুধু বিষণ্ণ চাঁদটা ঝুলে থাকে স্মৃতির আবছায়া জ্যোৎস্নাতে-
ঠিক আমারই মত।

আজ অনেক জন্ম.....
আমি তোমার প্রেমের উপবাসি।
তাতে কী? তুমিও যেতেই পারো পরবাস;
কারণ, আমার মনের সমস্ত ক্ষমাও
আজ আমি তোমায় দিলাম॥

                                           ©   সুফি রায়

সোমবার, ১০ জুলাই, ২০১৭

" কর্তব্য " - সুফি রায়

      
     বিয়ের একবছরের মধ্যেই শাঁখা-সিঁদূর খুইয়ে বসল মেয়েটা। এখনো একটা ছেলেপুলেও আসেনি ওর ঘরে। তাই এই সময় বড়ো জা বিমলা আর ভাসুর সুধাংশুই ওকে মনোবল জুগিয়েছে। একদিন সুধাংশু সকলের সামনেই ছোট ভাইয়ের বউকে আশ্বস্ত করেছিল, "কোন চিন্তা কোরো না। হয়ত সব সুখ তোমাকে দিতে অপারগ; কিন্তু আমার সাধ্যমত তোমার প্রতি কর্তব্য পালন করব।"
       এর উত্তরে রমিতা সেদিন কি বলেছিল জানিনা। কিন্তু কিছুদিন যাবৎ গভীর রাতে বিমলার বিছানা আংশিক ফাঁকা হয়ে যায়। আর বন্ধ দরজার ভেতরে পূর্ণতা লাভ করে রমিতা।




                                                                                -  সুফি রায়