সঙ্ঘমিত্রা প্রামাণিক চ্যাটার্জ্জী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সঙ্ঘমিত্রা প্রামাণিক চ্যাটার্জ্জী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

"রাজপুত্তুর ও রাধিকা" - সঙ্ঘমিত্রা প্রামাণিক চ্যাটার্জ্জী



রাজপুত্তুর, দূরের থেকেই দেখবি রাধিকাকে?
রাধিকা যে হৃদমাঝারে তোর সঙ্গেই থাকে।
আলতো করে আঙুল ছুঁবি আপাদমস্তক?
আমার পাতা লুকিয়ে দেখিস? তুই দুষ্টু লোক।
সোজা কথা হারিয়ে গেছে ধরেছি কবিতা ছুতো।
তোকে দেখে আগের মতোই ভীষণই আপ্লুত।



  © সঙ্ঘমিত্রা প্রামাণিক চ্যাটার্জ্জী ©

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

" আন্তরিকতা টুকুই আছে " - সঙ্ঘমিত্রা প্রামাণিক চ্যাটার্জ্জী


আমার ঘরে আসবে তুমি?
অট্টালিকা নয়গো আমার
না আছে আমার মস্ত বাড়ি
নাহ্!! তাও নেই ঘোড়া গাড়ি।
না আছে ভাই এ.সি র হাওয়া
হোম থেয়েটারও নেই ভেতরে
ওসব আমার কিচ্ছুটি নেই
এর পরেও আসবে ঘরে?
আসতে যখন চাইছো এতো
অবশ্যই আসতে পারো
কার কী আছে বুলির পাহাড়
শোনার সাধ নেই আমারও।
আমারও আছে অনেক কিছু,
কবিতা আছে ঝুড়ি ঝুড়ি।
শোনার যদি সাধ হয়তো—-
বললে, আমি শোনাতে পারি।
ঐশ্বর্যের বাহারও নেই
দাস-দাসীও নেই একটিও ভাই
নিজের হাতে রান্না খাবার যত্ন করে তাই দিতে চাই।
যদি না তা ভালো লাগে তবে তুমি দূরেই থেকো
আন্তরিকতাই চাইলে শুধু আমার ঘরে তুমি এসো।

     © সঙ্ঘমিত্রা প্রামাণিক চ্যাটার্জ্জী 

বৃহস্পতিবার, ২১ জুন, ২০১৮

" পুজোনীয় তুমি " - সঙ্ঘমিত্রা প্রামাণিক চ্যাটার্জ্জী



চিঠির প্রথমে আমার বিজয়ার প্রণাম নিও।
        কেমন আছো জানতে চাইবো না। জানি ওখানে শান্তিতেই আছো। আজ তোমাকে কত গুলো কথা বলতে চাই। তুমিই তো বলতে,"দেখবি, এমন একটা দিন আসবে সবাই তোকে অবাক হয়ে দেখবে। ইয়া একটা লম্বা গাড়ি আমার ভাঙা ঘরটার সামনে দাঁড়াবে। আশেপাশের লোকজন চোখ কপালে তুলে তোকে শুধু দেখবে।" কই,তেমন তো কেউ দেখেনা আমায়। সত্যি বলছি কেউ দেখেনা। আমার কোনো লম্বা ইয়া বড় গাড়ি কেনা হয়নি গো। হয়তো সেই অভিশাপ,হ্যাঁ মনে পড়ে তুমিই বলেছিলে আমি যখন তোমার অবাধ্য হয়েছিলাম তখন, "তুই কোনোদিনও সুখী হবিনা।" তোমার আশির্বাদ আমার লাগলো না কোনো কাজে কিন্তু তোমার অভিশাপটা কি রকম লেগে গেলো দেখো। জানো, তুমি যাদের নাম করে বলতে ওমুক মেয়েটা কাঁখে একটা, হাতে একটা বাচ্চা নিয়ে তোকে এসে বলবে, "কি দিদি তুই কেমন আছিস?এই দেখ আমার বাচ্চারা, ও ট্যাঁপা আর ও বুঁচি। তুই তখন ঠোঁটের ফাঁকে হাসি এনে ব্যাগ থেকে দুটো বাচ্চার হাতে টাকা দিয়ে বলবি ভালো করে মিষ্টি খাওয়াস ওদের।" জানো,ওর বরের লম্বা একটা গাড়ি। একটাই বাচ্চা। ছুটিতে কত জায়গায় বেড়ায়,কত ছবি পাঠায় ফেসবুকে, হোয়াটস অ্যাপে আমাকে। তুমি তখন অমন কেন বলতে গো? আমি নাকি বিদেশ যাবো আমার বরের সাথে, তুমি সব সময় বলতে। অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গায় আমি ঘুরবো। জানো, একবার ডায়মন্ড হারবার গেলেই আমাকে মাসের টাকার হিসেব করতে হয়,গুনে গুনে খরচ করতে হয় তখন। একদিক বাদ দিয়ে আর একদিকের খরচ সামলাই। তুমি আরো বলতে, "তুমি আমার বাড়ি আসবে; আমার রাঁধুনি, চাকর-বাকর তোমায় নানান কিছু রান্না করে  বসিয়ে যত্ন করে খাওয়াবে আর আমি তাদের বসে বসে হুকুম করবো।" জানো,আমার ঘরের রান্না বান্না,কাজ কম্ম সব আমিই করি। আমার একটা ঠিকে ঝিও নেই। তুমি আমায় আমার গোটা জীবনে শুধু আশির্বাদই করে গেছো। কিন্তু জীবনে একবারই অভিশাপ দিয়েছিলে। সেটাই ফলে চলেছে জীবন জুড়ে। তোমাদের অপছন্দ হয়েছিল আমার অবাধ্যতা,তবুও কেন দিলে সেই অভিশাপ? জিতে গেলে তো? আর আমি জেতার ভান করে চরম ভাবে হেরে বসে আছি জানো..? খাওয়া দাওয়ার কোনো অভাব হয়না আমার। সে সব ঠিক ঠাকই আছে। তোমার বাড়িতেও যেমন কষ্টে চলেছি আজও তেমন না হলেও স্বচ্ছলতা নেই আমার জীবনে। তবে সাধ আমার একটু একটু করে মরতে মরতে একেবারে মৃত। আমার গয়নার সাধ হলে আমাকে বলা হয়, "তুমি আর পাঁচজনের মত সাধারণ গয়না পরা নারী নয়। গয়না দিয়ে কী করবে?" এক একটা মানুষের তিনটে করে হাত। ডান বাম আর অজুহাত। আমার সাধ মরে এই ভাবেই।বেড়ানোর সাধ জাগলে যদি বলি বেড়াতে যাবো তবে শুনতে হয়,"লোকের কথায় নেচোনা। বেড়িয়ে কী হবে?" শরীরের অসুস্থতায় কাজের লোক রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করলে শুনতে হয়, "লোককে দেখে অমনি কাজের লোক রাখার ইচ্ছা জাগলো?নিজের কাজ নিজে করা ভালো। এতে শরীর সুস্থ থাকবে। আর আমাদের এতো উদ্বৃত্ত নেই যে কাজের লোকে টাকা ঢালবো।" এতকিছুর পরও লোকে জানতে যখন চায় আমি কেমন আছি। হেসে বলি "আমি ভালো আছি।"
                                                ইতি--
                                 আমি সেই মৃতপ্রায় কন্যা




                                                                                                     - সঙ্ঘমিত্রা প্রামাণিক চ্যাটার্জ্জী

সোমবার, ১০ জুলাই, ২০১৭

" নাম " - সঙ্ঘমিত্রা প্রামাণিক চ্যাটার্জ্জী


       তানিয়া তার মেয়ের নাম রেখেছিল "শুভলক্ষ্মী"। এমন সুন্দর নাম শুনে সকলেই অবাক হয়ে যায়। নামটা একবার বলার পর পুনরায় শুনতে চায় লোকজন। কারণ এ নাম বেশি শোনা যায়না। 'শুভ'  নামও শোনা যায়,আবার 'লক্ষ্মী' ও অনেকেরই নাম হয়। কিন্তু ঐ দুটো শব্দ জুড়ে দিয়ে "শুভলক্ষ্মী" সে ভাবে শোনা যায়না। তানিয়া যখন স্কুলে পড়তো, তখন তার ক্লাসে তার সঙ্গেই একটি মেয়ে পড়তো। তার নাম ছিলো "শুভলক্ষ্মী"। মেয়েটি ছিলো যেমন রূপবতী, তেমনই লেখাপড়া,নাচ,গান,খেলাধূলা সবেতেই ছিলো এক নম্বর। প্রতিবছর ক্লাসে প্রথম হতো। তার ব্যবহার সকলের মন ছুঁয়ে যেতো। মেয়েটির পুরো নাম ছিলো শুভলক্ষ্মী মুখোপাধ্যায়।

        মেয়ের "শুভলক্ষ্মী" নাম রাখার পেছনে তানিয়ার অনেক আশা আকাঙ্খা জড়িয়ে ছিলো। অবচেতন মনে সে ভেবেছিল তার গর্ভজাত সন্তানও ঠিক ঐ শুভলক্ষ্মী মুখোপাধ্যায়ের মতোই যেন সর্বগুণসম্পন্না হয়ে ওঠে। এককথায়, মনে মনে সে তার ক্লাসের প্রতি বছর প্রথম হওয়া ঐ মেয়েটির মতোই তার মেয়েও হবে, এটা আশা করতো।

       তানিয়া বহুদিন পর তার বাপের বাড়ি খড়গপুরে গেছে। কয়েকদিন সেখানে থাকবেও ঠিক করেছে। ভাইয়ের বউয়ের সাথে শপিং করতে বেড়োলো একদিন। রাস্তায় হঠাৎ তার এক সহপাঠিনী মিতার সাথে দেখা হয়ে গেলো। প্রায় পনেরো বছর বাদে মিতার সাথে তানিয়ার দেখা হলো। নানা গল্প আর কথার মাঝে হঠাৎ তার ক্লাসের প্রতি বছর প্রথম হওয়া সর্বগুণসম্পন্না শুভলক্ষ্মী মুখোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ উঠতেই মিতা বলল—"শুভলক্ষ্মী!বাব্ব!! সে যা করল শেষ পর্যন্ত। কলেজও পাশ করলো না। পড়তে পড়তেই এক মুসলিম ছেলের সঙ্গে প্রেম করে পালিয়ে গিয়ে তাকে বিয়ে করে বসলো। কানাঘুষো শুনেছি,

বিয়ের আগেই তার ও সব গল্পও হয়ে গেছিলো। ছ্যাঃ ছ্যাঃ!!কী নোংরা মেয়ে রে বাবা!!"

শুভলক্ষ্মী মুখোপাধ্যায়ের স্কুলের পরের জীবনের কথা শুনে "শুভলক্ষ্মী"র মা তানিয়া মাথা বন্ বন্ করে ঘুরতে লাগলো,দর্ দর্ করে ঘামতে থাকলো সে। সে সবসময় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে এসেছে তার ক্লাসের সেই শুভলক্ষ্মী মুখোপাধ্যায়ের মতোই যেন তার মেয়ে হয়। মিতার কাছে ওই সব শুনে সে মনে মনে বলে উঠলো,"হে ভগবান এবার কী হবে?"



                                                           - সঙ্ঘমিত্রা প্রামাণিক চ্যাটার্জ্জী

" স্কুল বেলা " - সঙ্ঘমিত্রা প্রামাণিক চ্যাটার্জ্জী



চল্ যাবি? আবার যাবি সেই ছাতিম গাছের তলে—
যেখানে রোদ্দুর আর বন্ধুরা মিলে ইচিংবিচিং খেলে?
যাবি বল্ —সেই ছাতিম গাছের তলে।
চল্ যাই, সেই মাঠটায় বসে তোর রুটির টুকরো খাবো
আমার টিফিনে যা আছে তা তোকেও ভাগ দেবো।
যাবি বল্ —ঐ স্কুলের মাঠের সবুজ ঘাসের কোলে।
চল যাবি?আবার যাবি সেই ছাতিম গাছের তলে—
শীতাতাপ রেস্তোরাঁ কী সত্যি সবার চাওয়া?
কাবাব,চিকেন,তন্দুরী কী ইচ্ছে আসল খাওয়া?
আসলে হাতড়ে হাতড়ে জড়াতে চাই সময়টাকে পেলে,
ডাকছে দেখ পাতা গুলো, ডাকছে শাখা মেলে-
চল, আবার হারিয়ে যাই ইচিং বিচিং দলে ঐ গাছটার তলে।

                 

                                                - সঙ্ঘমিত্রা প্রামাণিক চ্যাটার্জ্জী

" আপন জন " - সঙ্ঘমিত্রা প্রামাণিক চ্যাটার্জ্জী

           মেয়েটা বড়ই ছোট। বয়স মাত্র আড়াই। এর মধ্যে ট্রান্সফার। ওয়েস্ট বেঙ্গলে ভরসা একমাত্র দিদির বাড়ি। দিদিকে ফোনে জানিয়ে দিলো সে। স্ত্রী আর মেয়েকে নিয়ে ফিরবে। তারপর কদিন সেখানে থেকেই কলকাতায় যাবে অফিস করতে। যতদিন না একটা মাথা গোঁজার ব্যবস্থা হয় ততদিন থাকবে। যথাসময়ে পৌঁছলো দিদির বাড়ি। দিদি ভাইকে এত বছর পর দেখেও খুশি হওয়ার বদলে চিন্তিত। মনে মনে ভয়। মনের ভয় ব্যবহারে বারবার প্রকাশিত হতে লাগলো।
—- "তোরা কতদিন থাকবি ঠিক করেছিস?"
—- "যতদিন না একটা বাসা ভাড়া পাই। আসলে বাচ্চাটা ছোট, আর আমার বউটাও তো বড্ড ছেলেমানুষ। তাই....."
মুখের কথা ছিনিয়ে নিয়ে দিদি বলল, "ও তার মানে বাচ্চা বড় করে যাবি ঠিক করেছিস? দেখ আমার ছেলে মেয়ের কলেজ থাকে,আমার অফিস থাকে। বাড়িতে প্রচুর কাজ। কাজের লোকও পাওয়া যায়না।যতদিন থাকবি তোর বউ কে কিন্তু কাজে হেল্প করতে হবে।"
—- "হ্যাঁ দিদি নিশ্চয়ই করবে।"
শুধু কাজে সাহায্য করা নয়, একেবারে বাড়ির কাজের লোক হয়ে উঠলো ননদের পরিবারের। সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টে চাকরী করা স্বামীটি সারাদিন বাদে বাড়ি ফিরে আসার পর এককাপ চা দিতেও বউটিকে ঐ বাড়ির লোকের পারমিশান নিয়ে চলতে হতো। নিজেদের ময়লা জামা-কাপড়গুলো কাচার জন্য সার্ফ খুঁজে না পেলে ননদের কাছে সার্ফ চাইতে অফিস থেকে ফ্রীতে পাওয়া সোডা দেওয়া হতো তাকে। স্বামী এ সব শুনে সার্ফ কিনে এনে দিতে গেলো স্ত্রী এর হাতে। ননদের চোখে পড়লো ওমনি সে বলে উঠলো,
"হুম্ বেশি পাকামো!!! লোকে কী বলবে আমার বাড়িতে নিজেদের দুটো জামা কাচার জন্য আলাদা সার্ফ আনতে হচ্ছে। এসব চলবেনা।" ছিনিয়ে নিলো সার্ফের প্যাকেট। জীবন যেন অসহনীয় হয়ে উঠলো। এরপর একদিন সেই বউটির ভাইয়েরা ননদের ওখানে এলো তার বোন আর ভাগনী কে দেখতে। স্বামীটি অনেক রকম মিষ্টি কিনে আনতেই তার দিদি তারস্বরে বলে উঠলো— "ঢং যত্তসব!! এতো মিষ্টি এনে পয়সা নষ্টের কী আছে?ঘরে বিস্কুট তো ছিলোই, একটু চা দিয়ে দিলেই হতো।"
দাদারা তার সে মিষ্টি মুখে না তুলে ফিরে গেলো বাড়ি। তাদের কানে পৌঁছেছিল কথাগুলো। গলা দিয়ে মিষ্টি নামত না তাদের। তাই কাজের তাড়ার অজুহাতে ফিরে গেছিলো সেদিন। যাই হোক তাদের সারাজীবন ও বাড়িতে থাকতে হয়নি। নিজেদের একটা বন্দোবস্ত করতে পেরেছিলো ওরা। তারপর বহু বছর পর মেয়েটি তখন কলেজে, হঠাৎ সেরীব্রাল স্ট্রোক হয়ে হাসপাতালে আই সি ইউ তে ধুঁকছে সে। এমন সময় সেই শুভাকাঙ্খী দিদি এলেন। তার স্ত্রী কে ডেকে বললেন,
"হায় হায়!! তোমার মেয়েতো এবার মানুষ হবেনা। সংসার টা ভেসে গেলো তো। কী খাবে গো তোমরা?" কত চিন্তা ভদ্রমহিলার,কী বলবো।
মেয়েটি এগিয়ে এসে বললো— "পিসি আমার বাবা গভর্নমেন্ট সার্ভিস করেন। আশাকরি আমরা বেঁচে যাবো। তুমি বরং আর এসোনা।"
ওই টুকু মেয়ের অমন চ্যাটাং চ্যাটাং কথায় খেপে,রেগে পিসিটি বিদায় নিলো।
বহু বছর অসুস্থ অবস্থায় ভদ্রলোক অফিস করলেন, অবসর ও হলো সময় মতো। তারপর তিনি পুরো বিছানায় শয্যা নিলেন। একদিন মারা গেলেন। এতগুলো বছরে না এলো কোনো শুভাকাঙ্খী না করলো কেউ সাহায্য। এতোদিনে মেয়েটি বিবাহিত, ঘর সংসার করছে। এমনকী একটি সরকারী চাকরীও জুটেছে তার। একদিন ট্রেনের কামরায় পিসতুতো দিদির সাথে হঠাৎ দেখা,
—- "কী রে খবর কী?"
—- "এই তো চলছে।"
—- "কোথায় যাচ্ছিস?"
—- "স্কুলে।"
—- "মানে তুই চাকরী করিস?নিশ্চয়ই প্রাইভেট?"
—- "না সরকারী।"
—- "সরকারী? কী ভাবে পেলি?"
—- "পরীক্ষা দিয়ে।"
—- "আমিও পেতাম কিন্তু করলাম না। সংসার আগে তারপর ওসব।"
—- "ও ভালো।"
হঠাৎ পাশ থেকে এক সহযাত্রী মেয়েটিকে ডেকে ওঠে,
—- "মিসেস দাস মুখার্জ্জী!!"
দিদিটি বাঁকা দৃষ্টিতে বলল;
—- "তোকে ডাকলো?"
—- "হ্যাঁ। "
—- "ও আবার কী পদবী?"
—- "কেন বিয়ের আগে মুখার্জ্জী আর এখন দাস।"
—- "বাব্বা!! বরের টাইটেল টা নেওয়া যায়না বুঝি?"
—- "কই নিয়েছি তো।"
—- "দাস কে বিয়ে করেছিস? প্রেম!!বাবা কী সাহস।"
—- "হ্যাঁ আমি বরাবরই সাহসী। চলি আমার স্টেশান এসে গেছে।"
দিদিটি বোকার মত ফ্যাল ফ্যাল দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো।



                                                              - সঙ্ঘমিত্রা প্রামাণিক চ্যাটার্জ্জী