মেয়েটা বড়ই ছোট। বয়স মাত্র আড়াই। এর মধ্যে ট্রান্সফার। ওয়েস্ট বেঙ্গলে ভরসা একমাত্র দিদির বাড়ি। দিদিকে ফোনে জানিয়ে দিলো সে। স্ত্রী আর মেয়েকে নিয়ে ফিরবে। তারপর কদিন সেখানে থেকেই কলকাতায় যাবে অফিস করতে। যতদিন না একটা মাথা গোঁজার ব্যবস্থা হয় ততদিন থাকবে। যথাসময়ে পৌঁছলো দিদির বাড়ি। দিদি ভাইকে এত বছর পর দেখেও খুশি হওয়ার বদলে চিন্তিত। মনে মনে ভয়। মনের ভয় ব্যবহারে বারবার প্রকাশিত হতে লাগলো।
—- "তোরা কতদিন থাকবি ঠিক করেছিস?"
—- "যতদিন না একটা বাসা ভাড়া পাই। আসলে বাচ্চাটা ছোট, আর আমার বউটাও তো বড্ড ছেলেমানুষ। তাই....."
মুখের কথা ছিনিয়ে নিয়ে দিদি বলল, "ও তার মানে বাচ্চা বড় করে যাবি ঠিক করেছিস? দেখ আমার ছেলে মেয়ের কলেজ থাকে,আমার অফিস থাকে। বাড়িতে প্রচুর কাজ। কাজের লোকও পাওয়া যায়না।যতদিন থাকবি তোর বউ কে কিন্তু কাজে হেল্প করতে হবে।"
—- "হ্যাঁ দিদি নিশ্চয়ই করবে।"
শুধু কাজে সাহায্য করা নয়, একেবারে বাড়ির কাজের লোক হয়ে উঠলো ননদের পরিবারের। সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টে চাকরী করা স্বামীটি সারাদিন বাদে বাড়ি ফিরে আসার পর এককাপ চা দিতেও বউটিকে ঐ বাড়ির লোকের পারমিশান নিয়ে চলতে হতো। নিজেদের ময়লা জামা-কাপড়গুলো কাচার জন্য সার্ফ খুঁজে না পেলে ননদের কাছে সার্ফ চাইতে অফিস থেকে ফ্রীতে পাওয়া সোডা দেওয়া হতো তাকে। স্বামী এ সব শুনে সার্ফ কিনে এনে দিতে গেলো স্ত্রী এর হাতে। ননদের চোখে পড়লো ওমনি সে বলে উঠলো,
"হুম্ বেশি পাকামো!!! লোকে কী বলবে আমার বাড়িতে নিজেদের দুটো জামা কাচার জন্য আলাদা সার্ফ আনতে হচ্ছে। এসব চলবেনা।" ছিনিয়ে নিলো সার্ফের প্যাকেট। জীবন যেন অসহনীয় হয়ে উঠলো। এরপর একদিন সেই বউটির ভাইয়েরা ননদের ওখানে এলো তার বোন আর ভাগনী কে দেখতে। স্বামীটি অনেক রকম মিষ্টি কিনে আনতেই তার দিদি তারস্বরে বলে উঠলো— "ঢং যত্তসব!! এতো মিষ্টি এনে পয়সা নষ্টের কী আছে?ঘরে বিস্কুট তো ছিলোই, একটু চা দিয়ে দিলেই হতো।"
দাদারা তার সে মিষ্টি মুখে না তুলে ফিরে গেলো বাড়ি। তাদের কানে পৌঁছেছিল কথাগুলো। গলা দিয়ে মিষ্টি নামত না তাদের। তাই কাজের তাড়ার অজুহাতে ফিরে গেছিলো সেদিন। যাই হোক তাদের সারাজীবন ও বাড়িতে থাকতে হয়নি। নিজেদের একটা বন্দোবস্ত করতে পেরেছিলো ওরা। তারপর বহু বছর পর মেয়েটি তখন কলেজে, হঠাৎ সেরীব্রাল স্ট্রোক হয়ে হাসপাতালে আই সি ইউ তে ধুঁকছে সে। এমন সময় সেই শুভাকাঙ্খী দিদি এলেন। তার স্ত্রী কে ডেকে বললেন,
"হায় হায়!! তোমার মেয়েতো এবার মানুষ হবেনা। সংসার টা ভেসে গেলো তো। কী খাবে গো তোমরা?" কত চিন্তা ভদ্রমহিলার,কী বলবো।
মেয়েটি এগিয়ে এসে বললো— "পিসি আমার বাবা গভর্নমেন্ট সার্ভিস করেন। আশাকরি আমরা বেঁচে যাবো। তুমি বরং আর এসোনা।"
ওই টুকু মেয়ের অমন চ্যাটাং চ্যাটাং কথায় খেপে,রেগে পিসিটি বিদায় নিলো।
বহু বছর অসুস্থ অবস্থায় ভদ্রলোক অফিস করলেন, অবসর ও হলো সময় মতো। তারপর তিনি পুরো বিছানায় শয্যা নিলেন। একদিন মারা গেলেন। এতগুলো বছরে না এলো কোনো শুভাকাঙ্খী না করলো কেউ সাহায্য। এতোদিনে মেয়েটি বিবাহিত, ঘর সংসার করছে। এমনকী একটি সরকারী চাকরীও জুটেছে তার। একদিন ট্রেনের কামরায় পিসতুতো দিদির সাথে হঠাৎ দেখা,
—- "কী রে খবর কী?"
—- "এই তো চলছে।"
—- "কোথায় যাচ্ছিস?"
—- "স্কুলে।"
—- "মানে তুই চাকরী করিস?নিশ্চয়ই প্রাইভেট?"
—- "না সরকারী।"
—- "সরকারী? কী ভাবে পেলি?"
—- "পরীক্ষা দিয়ে।"
—- "আমিও পেতাম কিন্তু করলাম না। সংসার আগে তারপর ওসব।"
—- "ও ভালো।"
হঠাৎ পাশ থেকে এক সহযাত্রী মেয়েটিকে ডেকে ওঠে,
—- "মিসেস দাস মুখার্জ্জী!!"
দিদিটি বাঁকা দৃষ্টিতে বলল;
—- "তোকে ডাকলো?"
—- "হ্যাঁ। "
—- "ও আবার কী পদবী?"
—- "কেন বিয়ের আগে মুখার্জ্জী আর এখন দাস।"
—- "বাব্বা!! বরের টাইটেল টা নেওয়া যায়না বুঝি?"
—- "কই নিয়েছি তো।"
—- "দাস কে বিয়ে করেছিস? প্রেম!!বাবা কী সাহস।"
—- "হ্যাঁ আমি বরাবরই সাহসী। চলি আমার স্টেশান এসে গেছে।"
দিদিটি বোকার মত ফ্যাল ফ্যাল দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো।
—- "তোরা কতদিন থাকবি ঠিক করেছিস?"
—- "যতদিন না একটা বাসা ভাড়া পাই। আসলে বাচ্চাটা ছোট, আর আমার বউটাও তো বড্ড ছেলেমানুষ। তাই....."
মুখের কথা ছিনিয়ে নিয়ে দিদি বলল, "ও তার মানে বাচ্চা বড় করে যাবি ঠিক করেছিস? দেখ আমার ছেলে মেয়ের কলেজ থাকে,আমার অফিস থাকে। বাড়িতে প্রচুর কাজ। কাজের লোকও পাওয়া যায়না।যতদিন থাকবি তোর বউ কে কিন্তু কাজে হেল্প করতে হবে।"
—- "হ্যাঁ দিদি নিশ্চয়ই করবে।"
শুধু কাজে সাহায্য করা নয়, একেবারে বাড়ির কাজের লোক হয়ে উঠলো ননদের পরিবারের। সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টে চাকরী করা স্বামীটি সারাদিন বাদে বাড়ি ফিরে আসার পর এককাপ চা দিতেও বউটিকে ঐ বাড়ির লোকের পারমিশান নিয়ে চলতে হতো। নিজেদের ময়লা জামা-কাপড়গুলো কাচার জন্য সার্ফ খুঁজে না পেলে ননদের কাছে সার্ফ চাইতে অফিস থেকে ফ্রীতে পাওয়া সোডা দেওয়া হতো তাকে। স্বামী এ সব শুনে সার্ফ কিনে এনে দিতে গেলো স্ত্রী এর হাতে। ননদের চোখে পড়লো ওমনি সে বলে উঠলো,
"হুম্ বেশি পাকামো!!! লোকে কী বলবে আমার বাড়িতে নিজেদের দুটো জামা কাচার জন্য আলাদা সার্ফ আনতে হচ্ছে। এসব চলবেনা।" ছিনিয়ে নিলো সার্ফের প্যাকেট। জীবন যেন অসহনীয় হয়ে উঠলো। এরপর একদিন সেই বউটির ভাইয়েরা ননদের ওখানে এলো তার বোন আর ভাগনী কে দেখতে। স্বামীটি অনেক রকম মিষ্টি কিনে আনতেই তার দিদি তারস্বরে বলে উঠলো— "ঢং যত্তসব!! এতো মিষ্টি এনে পয়সা নষ্টের কী আছে?ঘরে বিস্কুট তো ছিলোই, একটু চা দিয়ে দিলেই হতো।"
দাদারা তার সে মিষ্টি মুখে না তুলে ফিরে গেলো বাড়ি। তাদের কানে পৌঁছেছিল কথাগুলো। গলা দিয়ে মিষ্টি নামত না তাদের। তাই কাজের তাড়ার অজুহাতে ফিরে গেছিলো সেদিন। যাই হোক তাদের সারাজীবন ও বাড়িতে থাকতে হয়নি। নিজেদের একটা বন্দোবস্ত করতে পেরেছিলো ওরা। তারপর বহু বছর পর মেয়েটি তখন কলেজে, হঠাৎ সেরীব্রাল স্ট্রোক হয়ে হাসপাতালে আই সি ইউ তে ধুঁকছে সে। এমন সময় সেই শুভাকাঙ্খী দিদি এলেন। তার স্ত্রী কে ডেকে বললেন,
"হায় হায়!! তোমার মেয়েতো এবার মানুষ হবেনা। সংসার টা ভেসে গেলো তো। কী খাবে গো তোমরা?" কত চিন্তা ভদ্রমহিলার,কী বলবো।
মেয়েটি এগিয়ে এসে বললো— "পিসি আমার বাবা গভর্নমেন্ট সার্ভিস করেন। আশাকরি আমরা বেঁচে যাবো। তুমি বরং আর এসোনা।"
ওই টুকু মেয়ের অমন চ্যাটাং চ্যাটাং কথায় খেপে,রেগে পিসিটি বিদায় নিলো।
বহু বছর অসুস্থ অবস্থায় ভদ্রলোক অফিস করলেন, অবসর ও হলো সময় মতো। তারপর তিনি পুরো বিছানায় শয্যা নিলেন। একদিন মারা গেলেন। এতগুলো বছরে না এলো কোনো শুভাকাঙ্খী না করলো কেউ সাহায্য। এতোদিনে মেয়েটি বিবাহিত, ঘর সংসার করছে। এমনকী একটি সরকারী চাকরীও জুটেছে তার। একদিন ট্রেনের কামরায় পিসতুতো দিদির সাথে হঠাৎ দেখা,
—- "কী রে খবর কী?"
—- "এই তো চলছে।"
—- "কোথায় যাচ্ছিস?"
—- "স্কুলে।"
—- "মানে তুই চাকরী করিস?নিশ্চয়ই প্রাইভেট?"
—- "না সরকারী।"
—- "সরকারী? কী ভাবে পেলি?"
—- "পরীক্ষা দিয়ে।"
—- "আমিও পেতাম কিন্তু করলাম না। সংসার আগে তারপর ওসব।"
—- "ও ভালো।"
হঠাৎ পাশ থেকে এক সহযাত্রী মেয়েটিকে ডেকে ওঠে,
—- "মিসেস দাস মুখার্জ্জী!!"
দিদিটি বাঁকা দৃষ্টিতে বলল;
—- "তোকে ডাকলো?"
—- "হ্যাঁ। "
—- "ও আবার কী পদবী?"
—- "কেন বিয়ের আগে মুখার্জ্জী আর এখন দাস।"
—- "বাব্বা!! বরের টাইটেল টা নেওয়া যায়না বুঝি?"
—- "কই নিয়েছি তো।"
—- "দাস কে বিয়ে করেছিস? প্রেম!!বাবা কী সাহস।"
—- "হ্যাঁ আমি বরাবরই সাহসী। চলি আমার স্টেশান এসে গেছে।"
দিদিটি বোকার মত ফ্যাল ফ্যাল দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো।
- সঙ্ঘমিত্রা প্রামাণিক চ্যাটার্জ্জী








0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মতামত দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ , খুব শীঘ্রই আপনাকে উত্তর দেওয়া হবে :-)