তানিয়া তার মেয়ের নাম রেখেছিল "শুভলক্ষ্মী"। এমন সুন্দর নাম শুনে সকলেই অবাক হয়ে যায়। নামটা একবার বলার পর পুনরায় শুনতে চায় লোকজন। কারণ এ নাম বেশি শোনা যায়না। 'শুভ' নামও শোনা যায়,আবার 'লক্ষ্মী' ও অনেকেরই নাম হয়। কিন্তু ঐ দুটো শব্দ জুড়ে দিয়ে "শুভলক্ষ্মী" সে ভাবে শোনা যায়না। তানিয়া যখন স্কুলে পড়তো, তখন তার ক্লাসে তার সঙ্গেই একটি মেয়ে পড়তো। তার নাম ছিলো "শুভলক্ষ্মী"। মেয়েটি ছিলো যেমন রূপবতী, তেমনই লেখাপড়া,নাচ,গান,খেলাধূলা সবেতেই ছিলো এক নম্বর। প্রতিবছর ক্লাসে প্রথম হতো। তার ব্যবহার সকলের মন ছুঁয়ে যেতো। মেয়েটির পুরো নাম ছিলো শুভলক্ষ্মী মুখোপাধ্যায়।
মেয়ের "শুভলক্ষ্মী" নাম রাখার পেছনে তানিয়ার অনেক আশা আকাঙ্খা জড়িয়ে ছিলো। অবচেতন মনে সে ভেবেছিল তার গর্ভজাত সন্তানও ঠিক ঐ শুভলক্ষ্মী মুখোপাধ্যায়ের মতোই যেন সর্বগুণসম্পন্না হয়ে ওঠে। এককথায়, মনে মনে সে তার ক্লাসের প্রতি বছর প্রথম হওয়া ঐ মেয়েটির মতোই তার মেয়েও হবে, এটা আশা করতো।
তানিয়া বহুদিন পর তার বাপের বাড়ি খড়গপুরে গেছে। কয়েকদিন সেখানে থাকবেও ঠিক করেছে। ভাইয়ের বউয়ের সাথে শপিং করতে বেড়োলো একদিন। রাস্তায় হঠাৎ তার এক সহপাঠিনী মিতার সাথে দেখা হয়ে গেলো। প্রায় পনেরো বছর বাদে মিতার সাথে তানিয়ার দেখা হলো। নানা গল্প আর কথার মাঝে হঠাৎ তার ক্লাসের প্রতি বছর প্রথম হওয়া সর্বগুণসম্পন্না শুভলক্ষ্মী মুখোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ উঠতেই মিতা বলল—"শুভলক্ষ্মী!বাব্ব!! সে যা করল শেষ পর্যন্ত। কলেজও পাশ করলো না। পড়তে পড়তেই এক মুসলিম ছেলের সঙ্গে প্রেম করে পালিয়ে গিয়ে তাকে বিয়ে করে বসলো। কানাঘুষো শুনেছি,
বিয়ের আগেই তার ও সব গল্পও হয়ে গেছিলো। ছ্যাঃ ছ্যাঃ!!কী নোংরা মেয়ে রে বাবা!!"
শুভলক্ষ্মী মুখোপাধ্যায়ের স্কুলের পরের জীবনের কথা শুনে "শুভলক্ষ্মী"র মা তানিয়া মাথা বন্ বন্ করে ঘুরতে লাগলো,দর্ দর্ করে ঘামতে থাকলো সে। সে সবসময় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে এসেছে তার ক্লাসের সেই শুভলক্ষ্মী মুখোপাধ্যায়ের মতোই যেন তার মেয়ে হয়। মিতার কাছে ওই সব শুনে সে মনে মনে বলে উঠলো,"হে ভগবান এবার কী হবে?"
- সঙ্ঘমিত্রা প্রামাণিক চ্যাটার্জ্জী








0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মতামত দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ , খুব শীঘ্রই আপনাকে উত্তর দেওয়া হবে :-)