আজ ২৫ শে ডিসেম্বর,মানে বড়দিন।
রবিন তার পাঁচজন বন্ধুদের বাড়িতে ইনভাইট করেছে। এবছর সকলে মিলে অন্য কোথাও গিয়ে সেলিব্রেট করার প্ল্যান ছিল। কিন্তু রবিন আজকের দিনটা বাড়িতেই কাটাতে চায়। রনি, স্মিতা, অরূপ, নীল, মানালি- এই পাঁচজন রবিনের খুব ভালো বন্ধু। সেই স্কুল লাইফ থেকেই। একসাথেই স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি পার করেছে। বর্তমানে রনি আর স্মিতা চাকরি করে একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে, একসাথে। নীল আর মানালি একটা IT কোম্পানিতে চাকরি করছে। একমাত্র অরূপই একটা সরকারী চাকরি করছে- হাইকোর্টে, ক্লার্ক। আর রবিন তার পারিবারিক বাবসাটাকে আরো উঁচু একটা জায়গায় নিয়ে গিয়ে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চায়। বাবা-মা দুবছর আগেই একটি দুর্ঘটনাতে মারা যায়। পরিজন বলতে এক কাকু, পরিবারের সাথে আমেরিকাতে থাকে। ওই ফোনে মাঝে সাঝে কথা হয়; বারবার বলে আমেরিকা চলে যেতে। কিন্তু রবিন তার পরিবারের এই স্মৃতিগুলোকে ছেড়ে কোথাও যেতে চায়না। একাই থাকে বাড়িতে। কখনো কখনো সব বন্ধুরা একসাথে মিলে পার্টি, গেট টুগেদার হয়। এদেরকে পেয়ে নিজেকে কখনো একা অনুভব করে না রবিন।
রবিনের পুরো নাম রবিন ডিসুজা, অর্থাৎ খ্রিস্টান। তাই প্রতি বছর এই ২৫ শে ডিসেম্বর সবাই একসাথে দিনটাকে উপভোগ করে। সবাই এসে গেছে রবিনের বাড়িতে। রবিন বেশ ভালোই সাজিয়েছে নিজের বাড়িটাকে। খ্রীষ্টমাস ট্রি টাও খুব সুন্দর সাজিয়েছে। সবাই মিলে বসে স্ন্যাক্স, ড্রিঙ্কস, গল্প, হৈহুল্লোর হচ্ছিল, সাথে মিউজিক সিস্টেমে গান। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ রনি বলল, "রবিন!! গেটে কেউ এসেছে মনে হয়। কলিং বেলের আওয়াজ পেলাম।"
রবিন : "কোথায় আওয়াজ? আমি কোনো আওয়াজ পেলাম না তো!!"
অরূপ : "না রে!! আমিও শুনতে পেলাম।"
রবিন মিউজিক সিস্টেমের ভলিউমটা কম করে দিলো। একটু পর আবার বেল বেজে উঠলো।
রবিন : "আচ্ছা আমি দেখছি, তোরা এনজয় কর।"
রবিন গেটের দিকে এগিয়ে গেলো। কিন্তু বাইরে তো কেউ নেই। এদিক ওদিক ভালো করে দেখে নিয়ে কেউ বাদমায়েসি করেছে ভেবে দরজাটা বন্ধ করতেই যাবে, দেখলো পায়ের কাছে একটা গিফট বক্স।
বাক্সটা দেখে একটু বেরিয়ে এসে আবার এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলো। কিন্তু দূর দূর পর্যন্ত কারোর ছায়াটুকু দেখতে পেলো না। বাক্সটা হাতে নিয়ে গেট বন্ধ করে ভেতরে চলে এল। কিন্তু চোখে মুখে চিন্তার ছাপ।
অরূপ : "কি হলো রে? কে ছিল? আর এটা কি?"
রবিন : " আমি নিজেই বুঝতে পারছিনা বাইরে কে ছিল আর বাক্সটা কে দিয়ে গেলো। শুধু এটাই বাইরে রাখা ছিল।"
রনি : "আজকে তো বড়দিন। তাই হয়তো কেউ সারপ্রাইজ গিফট দিয়েছে তোকে।"
স্মিতা : " যদি কেউ গিফট দিতে আসে তাহলে এভাবে দিয়ে পালাবে কেন? আর কুরিয়ার সার্ভিসের লোক এলে তো সেটা হাতেই দিতো।"
রনি : "হতে পারে অনেকক্ষণ থেকে বেল বাজাচ্ছিল আমরা শুনতে পাইনি। তাই দিয়ে চলে গেছে।"
রবিন : " কিন্তু কোনো কুরিয়ার যদি দিতো তাহলে তো কুরিয়ার সার্ভিসের নাম থাকতো। এখানে তো কিছুই লেখা নেই।"
মানালি : " আরে এতো কেন চিন্তা ভাবনার কী আছে। বাক্সটা খুলেই দেখ না কি আছে।"
রবিন বাক্স টা খুলে ফেলল। দেখলো তার মধ্যে কিছু কাগজ-পত্র রাখা আছে সাথে একটা খোলা চিঠি....
" প্রিয় রবিন ,
তোমার সেই ছোটবেলার একটা চাওয়া ছিল যেটা আজকে পূরণ করলাম। আমার পক্ষ থেকে তোমার বড়দিনের উপহার।
ভালোবাসার সাথে,
-সান্তাক্লজ "
চিঠিটা পরে সবাই বলল, "দেখলি তো, বললাম কেউ গিফট দিয়েছে তোকে।"
রবিন : " কিন্তু এই কাগজ গুলো কীসের? এটা কেমন গিফট?"
রবিন কাগজটা হাতে নিয়ে দেখল সেটা একটা দলিল। কিনতু দলিলটা পড়ে সে অবাক হয়ে গেলো। এর ওর মুখের দিকে তাকাতে লাগলো। ওর ভাব দেখে সকলেই একদম চুপ মেরে গেছে।
স্মিতা : "কী হলো রে? কি লেখা আছে ওতে?"
রবিন তখনো বিস্ময়ের ঘোরটা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। স্মিতা দলিলটা রবিনের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে পড়তে লাগল। আর তারপর জোরে জোরে হাসতে লাগলো। এবার সকলেরই কৌতুহল হচ্ছে।
স্মিতা : " এতে লেখা আছে হাজিগড়ের রাজা অজিত সিংহ তাঁর প্যালেসটা রবিনের নামে লিখে দিয়েছে। এখন থেকে রবিনই সেই প্যালেসের মালিক।"
মানালি : "হাজিগড়ের অজিত সিংহ?"
রবিন : হুমম!!
এবারে স্মিতার সাথে আর সকলেই হাসিতে ফেটে পড়ল। কিন্তু রবিন সকলের সাথে হাসিতে যোগ দিতে পারছিল না। সে বলল, "চুপ কর!! এটা কি এপ্রিল মাস নাকি যে এপ্রিল ফুল করবে আমাকে?"
অরূপ : "আরে বাবা.. রাজত্ব না থাকলেও তো অজিত সিংহ একজন রাজা-ই। আর রাজা না হলেও একজন বিখ্যাত রাইটার, পেইন্টার। রীতিমত সেলিব্রিটি। তাঁর এতবড় প্যালেস শুধু শুধু তোর নামে করবে কেন? কেউ মজাই করেছে (হাসতে হাসতে)।"
রবিন একটু গম্ভীরভাবে বলল, "কিন্তু তোরা চিঠিটা একবার ভালো করে পড়, লেখা আছে ....'তোমার সেই ছোটবেলার একটা চাওয়া ছিল যেটা আজকে পূরণ করলাম। '...আমার ছোটবেলার কোনো চাওয়া অন্য কেউ কী করে জানতে পারে? আর এটা সত্যি যে ছোটবেলায় আমি ওই প্যালেসটার মালিক হতে চাইতাম।"
(........পরবর্তী অংশ )
রবিন তার পাঁচজন বন্ধুদের বাড়িতে ইনভাইট করেছে। এবছর সকলে মিলে অন্য কোথাও গিয়ে সেলিব্রেট করার প্ল্যান ছিল। কিন্তু রবিন আজকের দিনটা বাড়িতেই কাটাতে চায়। রনি, স্মিতা, অরূপ, নীল, মানালি- এই পাঁচজন রবিনের খুব ভালো বন্ধু। সেই স্কুল লাইফ থেকেই। একসাথেই স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি পার করেছে। বর্তমানে রনি আর স্মিতা চাকরি করে একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে, একসাথে। নীল আর মানালি একটা IT কোম্পানিতে চাকরি করছে। একমাত্র অরূপই একটা সরকারী চাকরি করছে- হাইকোর্টে, ক্লার্ক। আর রবিন তার পারিবারিক বাবসাটাকে আরো উঁচু একটা জায়গায় নিয়ে গিয়ে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চায়। বাবা-মা দুবছর আগেই একটি দুর্ঘটনাতে মারা যায়। পরিজন বলতে এক কাকু, পরিবারের সাথে আমেরিকাতে থাকে। ওই ফোনে মাঝে সাঝে কথা হয়; বারবার বলে আমেরিকা চলে যেতে। কিন্তু রবিন তার পরিবারের এই স্মৃতিগুলোকে ছেড়ে কোথাও যেতে চায়না। একাই থাকে বাড়িতে। কখনো কখনো সব বন্ধুরা একসাথে মিলে পার্টি, গেট টুগেদার হয়। এদেরকে পেয়ে নিজেকে কখনো একা অনুভব করে না রবিন।
রবিনের পুরো নাম রবিন ডিসুজা, অর্থাৎ খ্রিস্টান। তাই প্রতি বছর এই ২৫ শে ডিসেম্বর সবাই একসাথে দিনটাকে উপভোগ করে। সবাই এসে গেছে রবিনের বাড়িতে। রবিন বেশ ভালোই সাজিয়েছে নিজের বাড়িটাকে। খ্রীষ্টমাস ট্রি টাও খুব সুন্দর সাজিয়েছে। সবাই মিলে বসে স্ন্যাক্স, ড্রিঙ্কস, গল্প, হৈহুল্লোর হচ্ছিল, সাথে মিউজিক সিস্টেমে গান। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ রনি বলল, "রবিন!! গেটে কেউ এসেছে মনে হয়। কলিং বেলের আওয়াজ পেলাম।"
রবিন : "কোথায় আওয়াজ? আমি কোনো আওয়াজ পেলাম না তো!!"
অরূপ : "না রে!! আমিও শুনতে পেলাম।"
রবিন মিউজিক সিস্টেমের ভলিউমটা কম করে দিলো। একটু পর আবার বেল বেজে উঠলো।
রবিন : "আচ্ছা আমি দেখছি, তোরা এনজয় কর।"
রবিন গেটের দিকে এগিয়ে গেলো। কিন্তু বাইরে তো কেউ নেই। এদিক ওদিক ভালো করে দেখে নিয়ে কেউ বাদমায়েসি করেছে ভেবে দরজাটা বন্ধ করতেই যাবে, দেখলো পায়ের কাছে একটা গিফট বক্স।
বাক্সটা দেখে একটু বেরিয়ে এসে আবার এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলো। কিন্তু দূর দূর পর্যন্ত কারোর ছায়াটুকু দেখতে পেলো না। বাক্সটা হাতে নিয়ে গেট বন্ধ করে ভেতরে চলে এল। কিন্তু চোখে মুখে চিন্তার ছাপ।
অরূপ : "কি হলো রে? কে ছিল? আর এটা কি?"
রবিন : " আমি নিজেই বুঝতে পারছিনা বাইরে কে ছিল আর বাক্সটা কে দিয়ে গেলো। শুধু এটাই বাইরে রাখা ছিল।"
রনি : "আজকে তো বড়দিন। তাই হয়তো কেউ সারপ্রাইজ গিফট দিয়েছে তোকে।"
স্মিতা : " যদি কেউ গিফট দিতে আসে তাহলে এভাবে দিয়ে পালাবে কেন? আর কুরিয়ার সার্ভিসের লোক এলে তো সেটা হাতেই দিতো।"
রনি : "হতে পারে অনেকক্ষণ থেকে বেল বাজাচ্ছিল আমরা শুনতে পাইনি। তাই দিয়ে চলে গেছে।"
রবিন : " কিন্তু কোনো কুরিয়ার যদি দিতো তাহলে তো কুরিয়ার সার্ভিসের নাম থাকতো। এখানে তো কিছুই লেখা নেই।"
মানালি : " আরে এতো কেন চিন্তা ভাবনার কী আছে। বাক্সটা খুলেই দেখ না কি আছে।"
রবিন বাক্স টা খুলে ফেলল। দেখলো তার মধ্যে কিছু কাগজ-পত্র রাখা আছে সাথে একটা খোলা চিঠি....
" প্রিয় রবিন ,
তোমার সেই ছোটবেলার একটা চাওয়া ছিল যেটা আজকে পূরণ করলাম। আমার পক্ষ থেকে তোমার বড়দিনের উপহার।
ভালোবাসার সাথে,
-সান্তাক্লজ "
চিঠিটা পরে সবাই বলল, "দেখলি তো, বললাম কেউ গিফট দিয়েছে তোকে।"
রবিন : " কিন্তু এই কাগজ গুলো কীসের? এটা কেমন গিফট?"
রবিন কাগজটা হাতে নিয়ে দেখল সেটা একটা দলিল। কিনতু দলিলটা পড়ে সে অবাক হয়ে গেলো। এর ওর মুখের দিকে তাকাতে লাগলো। ওর ভাব দেখে সকলেই একদম চুপ মেরে গেছে।
স্মিতা : "কী হলো রে? কি লেখা আছে ওতে?"
রবিন তখনো বিস্ময়ের ঘোরটা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। স্মিতা দলিলটা রবিনের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে পড়তে লাগল। আর তারপর জোরে জোরে হাসতে লাগলো। এবার সকলেরই কৌতুহল হচ্ছে।
স্মিতা : " এতে লেখা আছে হাজিগড়ের রাজা অজিত সিংহ তাঁর প্যালেসটা রবিনের নামে লিখে দিয়েছে। এখন থেকে রবিনই সেই প্যালেসের মালিক।"
মানালি : "হাজিগড়ের অজিত সিংহ?"
রবিন : হুমম!!
এবারে স্মিতার সাথে আর সকলেই হাসিতে ফেটে পড়ল। কিন্তু রবিন সকলের সাথে হাসিতে যোগ দিতে পারছিল না। সে বলল, "চুপ কর!! এটা কি এপ্রিল মাস নাকি যে এপ্রিল ফুল করবে আমাকে?"
অরূপ : "আরে বাবা.. রাজত্ব না থাকলেও তো অজিত সিংহ একজন রাজা-ই। আর রাজা না হলেও একজন বিখ্যাত রাইটার, পেইন্টার। রীতিমত সেলিব্রিটি। তাঁর এতবড় প্যালেস শুধু শুধু তোর নামে করবে কেন? কেউ মজাই করেছে (হাসতে হাসতে)।"
রবিন একটু গম্ভীরভাবে বলল, "কিন্তু তোরা চিঠিটা একবার ভালো করে পড়, লেখা আছে ....'তোমার সেই ছোটবেলার একটা চাওয়া ছিল যেটা আজকে পূরণ করলাম। '...আমার ছোটবেলার কোনো চাওয়া অন্য কেউ কী করে জানতে পারে? আর এটা সত্যি যে ছোটবেলায় আমি ওই প্যালেসটার মালিক হতে চাইতাম।"
(........পরবর্তী অংশ )
- মনোজ রায়








0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মতামত দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ , খুব শীঘ্রই আপনাকে উত্তর দেওয়া হবে :-)