দেখতে দেখতে বিদায় নিতে চলেছে আরো একটা বছর ,২০১৬। সঠিক মুহূর্তের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ২০১৭ দরজায় উঁকি মারছে। ৩১ শে ডিসেম্বর থেকেই হু হু করে চড়তে থাকে উন্মাদনার পারদ। বছরের শেষ রাতে ঝলমলে আলোর মাঝেই শুরু হয় নতুন বছর শুরুর অপেক্ষা। ঘড়ির কাঁটাও যেন ধীরে চলতে থাকে, বাড়িয়ে দেয় অপেক্ষার অধীরতা। কারণ একটি সেকেণ্ডে সময়ের ব্যাবধান হয়ে দাঁড়ায় পুরো একটা বছর। আর নতুন বছর মানেই সকলে মিলে আড্ডা ,গল্প, পিকনিক। তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো গ্রিটিংস কার্ডের মাধ্যমে নববর্ষের শুভেচ্ছাবার্তা আদান প্রদান। নার্সারি পড়ুয়া থেকে শুরু করে বয়স্ক- সবাই তাদের আপনজন, আত্মীয়-বন্ধুদের গ্রিটিংস কার্ড দিয়ে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানায়।
Greetings Card এর প্রচলন শুরু হয় প্রাচীন চীন দেশে। তখন তারা নিজেদের সদিচ্ছাগুলি একে অপরের সাথে আদানপ্রদান করতো নতুন বছর উদযাপন করার সময়। মিশরীয়রা শুভেচ্ছা আদানপ্রদান করতো প্যাপিরাসের উপর। জার্মানরা পরিচিত ছিল ১৪ শতকের দিকে কাঠের টুকরোর উপর এঁকে শুভেচ্ছা আদানপ্রদান এর জন্য। ১৫ শতকের প্রথম দিকে হাতে বানানো কাগজের Greetings Cardব্যবহার করতো ইউরোপীয়রা। সবথেকে পুরোনো ভ্যালেনটাইন বর্তমানে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রাখা আছে। ১৮৫০ এর দিকে হাতে তৈরী Greetings Card অনেক বেশি দামি এবং জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তারপর ধীরে ধীরে অনেকেই গ্রিটিংস কার্ড ছাপার আকারে বাজারে আনতে উদ্যোগী হয়।
নববর্ষ ছাড়া Greetings Card অন্যান্য অনুষ্ঠানেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেমন- জন্মদিন, বিয়ে অথবা বিবাহবার্ষিকী, শিক্ষক দিবস, ক্রিসমাস ইত্যাদি। Greetings Card দোকানে কিনতে পাওয়া গেলেও অনেকেই নিজের হাতে বানিয়ে দিতে পছন্দ করে। কিনতু বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া (হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক, টেলিগ্রাম, ইমো ইত্যাদি) এবং ইলেকট্রনিক মেসেজিং সার্ভিসগুলোর কারণে
Greetings Card এর ব্যবহার কমে এসেছে। ভেবে আশ্চর্য বোধ হয় রে, আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত Greetings Card ব্যবহার কমলেও প্রাশ্চাত্য দেশগুলিতে এর ব্যবহার এখনো আছে। পাশ্চাত্য দেশগুলি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে সময়ের নিরীখে আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে। তা সত্ত্বেও সেখানে গ্রিটিংস কার্ডের চল রয়েছে, বিশেষ করে এই ডিসেম্বর-জানুয়ারী মাসে। আসলে সময়ের সাথে সাথে মানুষ যত আধুনিক হয়েছে ততই কমে গেছে সামাজিকতার আন্তরিকতা। তাই এখন আর বছর শেষে দোকানে মানুষের ভিড় দেখা যায় না। দোকানের বাইরেও ঝুলতে দেখা যায় না ছোট-বড় রং-বেরঙের কার্ড। যদিও এখনও সবাই একে অপরকে শুভেচ্ছা জানায়। তবে তা হাতে হাতে উষ্ণ অনুভূতি নয়, তা অসাড় মুঠোফোনের শীতল সামাজিকতা।
- মনোজ রায়








0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মতামত দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ , খুব শীঘ্রই আপনাকে উত্তর দেওয়া হবে :-)