সোমবার, ১০ জুলাই, ২০১৭

" রিমির মৃত্যু রহস্য - প্রথম অংশ " - মনোজ রায়

সকাল সকাল স্নান সেরে লালপাড় হলুদ শাড়িটা পড়ে তৈরী হয়ে নিল অদিতি। তারপর পুজোর থালা হাতে বেরিয়ে পড়ল মন্দিরের দিকে।
-- "পুজোটা দিয়ে দেবেন ঠাকুরমশাই।"
-- "এবছরও পুজো দিচ্ছ মা?"
-- "আজকের দিনটা আমি কি করে ভুলি বলুন তো? ও থাক আর না থাক, যতদিন আমি থাকব এই দিনটাতে ওর নামে পুজো হবেই।"

        অদিতি প্রতিবছর এইদিনটাতে রিমির নামে মন্দিরে পুজো দেয়। আজ রিমির জন্মদিন। অদিতির বোন রিমি। মা-বাবা মারা যাওয়ার পর দিদি অদিতিই রিমির সব। অদিতির বিয়ে হয়ে গেছে। রিমি এখন কলেজে পড়ে। কলেজে ওঠার পর ও কলেজ-হোস্টেলেই থাকত। থাকত.., কারণ এখন থাকে না। গত দুমাস ধরে ওর কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সমস্ত পরিচিতদের বাড়িতে খোঁজ না পাওয়ায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয়নি। "কোথায় যে গেল মেয়েটা!! কি এমন হল যে ও আমাকেও বলে গেল না। তুই ফিরে আয় বোন, ফিরে আয়। তোর দিদি তোকে খুব মিস করছে রে!!" মন্দিরে বসে রিমির কথা ভাবতে ভাবতেই অদিতির চোখ থেকে জল পড়তে লাগল। কিছুক্ষণ মন্দিরে বসে তারপর বাড়ির দিকে রওনা হল। অদিতি গাড়ি নিয়ে এসেছে। নিজেই ড্রাইভ করে। কিনতু কিছুটা যাওয়ার পরেই, "দিদি!! দিদি!!" একটা চেনা ডাকে জোরে ব্রেক কষল অদিতি। তাড়াতাড়ি গাড়ি থেকে নেমে দেখল একটি মেয়ে দৌড়ে আসছে। আরে এটা তো.. অদিতি দুহাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আর মেয়েটিও ঝাঁপিয়ে পড়েছে তার দিদির বুকে। প্রাথমিক আবেগ কেটে যাওয়ার পর তারা গাড়িতে উঠে চলে গেল। কত হাসি-কান্নার রোল উঠল তাদের মনে। তবু তাদের কথা যেন আর ফুরোতে চায় না। তারপর দুপুরে কিছু খেয়ে দুজনে আবার বেরিয়ে পড়ল গাড়ি নিয়ে। এবারের গন্তব্য রিমির হোস্টেল।

        রিমির কলেজ বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ কি.মি.। অনেকটা সময়ের ব্যাপার। তাই বাড়ি থেকে যাওয়া আসা না করে হোস্টেলে থাকে রিমি। হোস্টেলটা কলেজ ক্যাম্পাসেই, পিছনের দিকে।
-- "তুই গাড়িতে বসে থাক। আমি হোস্টেল-ইন-চার্জকে বলে সব জিনিসপত্র বাড়ি নেওয়ার ব্যবস্থা করে আসছি।" এই বলে অদিতি সোজা ইনচার্জ-এর  রুমের দিকে চলে গেল। রিমির এই কলেজে ভর্তির সময় অদিতি এসেছিল। এছাড়াও কয়েকবার কলেজে, হোস্টেলে এসেছে এর আগে। পরীক্ষার সময় পড়ার চাপ থাকলে বা অন্য কোন কারণে রিমি বাড়ি যেতে না পারলে তখন অদিতি এসে বোনের সাথে দেখা করে যেত। কিছু দরকার থাকলে কিনে দিয়ে যেত। তাই এই কলেজের সবকিছু তার জানা। তাই হোস্টেল-ইন-চার্জও ওকে ভালমতোই চেনেন।
-- "আসতে পারি ?"
-- "আরে মিসেস ব্যানার্জি!! আসুন। বলুন।"
-- "আসলে আমি এসেছি রিমির জিনিসপত্রগুলো নিয়ে যেতে।"
-- "ও হ্যাঁ..। ওগুলো তো এখনো রয়ে গেছে। সব তেমনভাবেই রয়েছে। আপনি নিয়ে যেতে পারেন।" তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "সে তো আর ফিরে আসবে না। জিনিসপত্রগুলো...."
-- "এরকম কেন বলছেন? ও তো ফিরে এসেছে। এখানেও এসেছে আমার সাথে।
কথাটা শুনে মিসেস রায় (ইন চার্জ) একটু থতমত খেয়ে গেলেন। অবাক হয়ে অদিতির দিকে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ।
-- "কি হলো ম্যাডাম ?"
-- "না মানে.., রিমি আপনার সাথে এসেছে?"
-- "হাঁ আমার সাথেই এসেছে। ও গাড়িতে অপেক্ষা করছে। এতদিন পর ফিরেছে, তাই বললো আপনার সাথে কথা বলে ওর জিনিসপত্রগুলো নিয়ে নিতে আর আপনাকে যেন বলে দি যে ও এখন আর আসবেনা এখানে। আমিও আর জোর করলাম না।
-- "আপনি ওকে ফোন করে এখানে আসতে বলতে পারবেন?" একটু ইতস্ততভাবে জিজ্ঞাসা করলেন মিসেস রায়।
-- "হ্যাঁ!! এক মিনিট, ডাকছি ওকে। ওর কাছে তো কোনো ফোন নেই। আমি ডেকে আনছি।"
-- "না দাঁড়ান। আমিই আসছি আপনার সাথে। "
গাড়ির কাছে এসে অদিতি বলল, "রিমি.. এইযে ম্যাডাম এসেছেন তোকে দেখবেন বলে।" কিন্তু গাড়ির ভেতর উঁকি মেরে দেখে কেউ নেই।
"কোথায় গেলো রিমি..?? এইতো একটু আগেই ছিল এখানে। আমাকে বললো অপেক্ষা করবে.., হয়তো ওর বান্ধবীদের সাথে দেখা করতে গেছে। একটু অপেক্ষা করুন, এক্ষুণি চলে আসবে।"
-- "আপনি ভুল দেখেছেন মিসেস ব্যানার্জী। এ হতে পারেনা। ও আসতেই পারেনা। "

                      

                                                                                                               (......পরবর্তী অংশ  )
                                                                                                                            - মনোজ রায় 

0 Comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার মতামত দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ , খুব শীঘ্রই আপনাকে উত্তর দেওয়া হবে :-)