সোমবার, ১০ জুলাই, ২০১৭

" বেলাশেষে " - অয়ন মন্ডল


      গোছগাছ পর্বটা প্রায় সেরেই ফেলেছেন অনিমেষবাবু। চশমাটা ডেস্কে রেখে নির্নিমেষ তাকিয়ে রইলেন জানালার ওপারে, কিছু যেন ধাক্কা দিচ্ছে। ওখানের জল-হাওয়া কেমন সেটাও ভাবতে হচ্ছে। অভিরুপ এবং বৌমা দুজনেই অবশ্য আশ্বস্ত করেছে। তবু এখানকার বন্ধুদের ভোলা সম্ভব না তাঁর পক্ষে, তা সে যতই বৃদ্ধাবাস হোক।
—- "ওষুধগুলো নিয়েছো?" মাধবীদেবীর প্রশ্নে সম্বিৎ ফেরে তাঁর।
—- "হ্যাঁ, নিলাম তো।"
—- "থাক!! যা অগোছালো তুমি, কিভাবে যে তোমার বউ মানিয়েছিলো তোমার সাথে কে জানে!!"
—- "হ্যাঁ সবই ওর গুণে। সহমত হন অনিমেষবাবু।
 মাধবীদেবীর সাথে এখানেই আলাপ অনিমেষবাবুর। বেশ মিষ্টি, নরম গোছের এবং গোছানো। মধ্য সত্তরের তারুণ্য হার মানে মাধবীদেবীর কাছে, বয়সের তেমন ফারাক নেই বলেই হয়তো। ছেলে-বৌমার তাঁকে এখানে রেখে যাওয়ার দিনটা এখনো মনে করতে পারেন অনিমেষবাবু। চোখটা ভিজে ওঠে। আজ তারাই...... !!! তবু তাদের কাছে ফেরাটা যেন গৌণ আজ। আনন্দটাও ফিকে।
        সবাই অপেক্ষারত বিদায় জানাতে। সবাইকে বিদায় জানিয়ে এলেন মাধবীদেবীর কাছে। চোখে ধরে রাখা জলটা এতক্ষণে নদী হলো। কিছু নীরব অভিব্যক্তি কথা বলতে চাইল যেন।
ওদের কাউকে আসতে মানা করেছেন। নিজেই যাবেন, একা। স্টেশনে পৌঁছাতে ঘন্টাখানেক।
  পৌঁছে অনভ্যাসের ফোনটায় একবার হাত বুলোলেন বেঞ্চিতে বসে।
"জন্মদিনে উপহার দিয়ে ব্যবহার করাটাও শিখিয়েছিল মাধবী", মনে মনে বললেন তিনি।
"আবার একবার নিশ্চয়ই দেখা হবে" হঠাৎ একটা মেসেজ মাধবীদেবীর।
রাজধানী এক্সপ্রেসটা বেরিয়ে যাচ্ছে স্টেশন ছেড়ে। বেঞ্চিতে বসে তার দিকে তাকালেন অনিমেষবাবু, মনে বাজছে "আবার একবার নিশ্চয়ই দেখা হবে।"
"সারা জীবনের জন্য" অস্ফুটে বললেন তিনি।



                                                                 - অয়ন মন্ডল

0 Comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার মতামত দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ , খুব শীঘ্রই আপনাকে উত্তর দেওয়া হবে :-)